এতদিন বিজেপির(BJP) অন্দরমহলের গুঞ্জনে প্রকাশ্যে আসত শুভেন্দু গোষ্ঠী ও দিলীপ গোষ্ঠীর কোন্দল। তবে সেই কোন্দল এবার প্রকাশ্যে লড়াইয়ের আকার নিল। ডিসেম্বরে(Decembar) সরকার পড়ে যাওয়ার ৩ টি তারিখ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Shuvendu Adhikari)। তবে প্রথম ডেট ফেল করার পর পুড়ল মুখ। ডেট ঘোষণার পরই কটাক্ষ ধেয়ে এসেছিল রাজ্যের প্রাক্তন সভাপতি তথা সহকর্মী দিলীপ ঘোষের(Dilip Ghosh) থেকে। ‘ভুয়ো ডেট’ ফেল করে গলা উঁচিয়ে হাজরার সভা থেকে নাম না করে দিলীপকে আক্রমণ করলেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে ভোলবদলে জানালেন, সরকার পড়ে যাওয়া নিয়ে আমি কোনও তারিখ দেইনি। একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের এমন শিশুসুলভ আচরণে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুভেন্দুর পাশাপাশি বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও(Sukanta Majumdar) একহাত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার হাজরায় বিজেপির জনসভা থেকে অতীতের তারিখ নিয়ে ভোল বদলে শুভেন্দু বলেন, “১২, ১৪, ২১ এই তিন তারিখে সরকার বদলের বিষয়ে আমি কিছু বিলিনি। ৭০ জন নিয়ে আমরা ওদের বিধায়ক ভাঙিয়ে সরকার গড়তে চাই না।” এরপর নাম না করে অভিষেককে আক্রমণ করে বলেন, “২৪০০ কোটির কেলেঙ্কারি, ১০০০ কোটি টাকা একাই হজম করেছে বাবুসোনা। আজ সেই তারিখ ছিল। আমি বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সেই তারিখ সিস্টেম অনুযায়ী ১৩ জানুয়ারি করা হয়েছে।” এখানেই থামেননি শুভেন্দু। এই তারিখ নিয়ে কটাক্ষ করার জন্য দলের প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও আক্রমণ শানান ‘অধিকারী বাড়ির মেজ কত্তা’। তিনি বলেন, “লিখে রাখুন, আমি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আমি গিমিক পছন্দ করি না। সকালে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে মিডিয়ায় স্টেটমেন্ট দিই না। যা বলি ভেবে বলি। সময়ের অপেক্ষা। ১২ ডিসেম্বর ১৩ জানুয়ারি হতে পারে তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি হবে না।”
হাজরার এই সভার পর শুভেন্দুর এমন শিশুসুলভ আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দিলীপ ঘোষ। পরিষ্কার ভাষায় বলেন, “দলকে ড্যামেজ করছে শুভেন্দু। যখন প্রথম ডেট দেওয়া হয় তখন আমি বলেছিলাম কিসের ডেট? পার্টির কোনও কর্মসূচি রয়েছে? তাহলে কার নির্দেশে এসব করা হচ্ছে? মাঝে দেখলাম সুকান্ত সেই সুরে সুর মিলিয়েছে। ওকে বলেছিলাম তুমি তো সভাপতি তুমি কি জানো দিল্লির নেতারা এই ৩ তারিখ নিয়ে কিছু বলেছেন কিনা? যদি না জানো তাহলে বলব, কেন শুভেন্দুর সুরে সুর মেলাচ্ছো। যদি ৩ টে তারিখে সিবিআই কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানায় তাহলে কি আমাদের কিছু বলা উচিত? কোর্টের ভরসায় কি রাজনীতি করব আমরা? কোর্ট যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই মাসে নেয়ও তাহলে সে বিষয় নিয়ে আমাদের কোনও মন্তব্য করা সাধে? মানুষতো তাহলে এবার প্রকাশ্যে বিজেপি-সিবিআই আঁতাতের কথা বলবে। এবার দল বুঝুক দল সিদ্ধান্ত নিক।” ঘনিষ্ঠ মহলে দিলীপ এই বিষোদ্গার করে আরও বলেন, “একাই দলটাকে বাংলা থেকে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে শুভেন্দু।” এদিন শুভেন্দুকে তুলোধনা করে কার্যত রাস্তায় নামিয়ে এনেছেন দিলীপ ঘোষ। শুভেন্দুকে অপরিনত, অপরিপক্ক, ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদ বলতেই শুধু বাকি রেখেছেন। প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর এই তারিখ ঘোষণার পরই প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “জানি না কোথায় কে কী বলে বেড়াচ্ছে। ১২ তারিখের সঙ্গে কী বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।”





































































































































