গোপাল সেনের মতো শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকেও (Bratya Basu) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) খুন করতে চেয়েছিল বাম সমর্থিত দুষ্কৃতীরা। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করাই উদ্দেশ্য ছিল তাদের। কিন্তু সেই প্ররোচনায় পা না দিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে অভিভাবক সুলভ আচরণ করে গিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সোমবার, সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক অভিযোগ করল WBCUPA।
শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবকুপার সম্মেলন ঘিরে তুমুল বিক্ষোভে মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। তাঁর কনভয়ের উপর হামলা চালায় বাম ও অতিবাম ছাত্র সংগঠন। তবে, এতে থমকে যাবে না ওয়েবকুপা। এদিন অধ্যাপক সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, তাঁরা আরও বৃহৎ আন্দোলনের পথে নামছে।
১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারে WBCUPA-এর বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালীন কিছু বাম এবং অতিবাম ছাত্র বিনা প্ররোচনায় ঢুকে তাণ্ডব চালায়। প্রায় ৩০০০-এর বেশি অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়। সন্ত্রস্ত অধ্যাপকরা ছিলেন সম্পূর্ণ শান্ত ও সংযত। মঞ্চ থেকে স্বয়ং WBCUPA-এর সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ব্রাত্য বসু বারবার সংযত থাকার নির্দেশ দেন এবং অধ্যাপকসমাজ তা অক্ষরে অক্ষরে পালনও করেন।
কিন্তু, ওই উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের দল কোনও বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে উপস্থিত অধ্যাপকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করতে থাকে এবং শারীরিক নিগ্রহে লিপ্ত হয়- বলে অভিযোগ। WBCUPA-এর তরফে বলা হয়, সবচেয়ে নিন্দনীয় বিষয় হল, মহিলা অধ্যাপকগণও তাদের এই বর্বর আক্রমণের শিকার হন। আরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শিক্ষামন্ত্রী WBCUPA-এর রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক ব্রাত্য বসুকে ঘিরে ধরে শুধু হেনস্থা নয়, শারীরিকভাবে তাঁকে আঘাত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হয়।
এই জঘন্য এবং অগণতান্ত্রিক হামলার বিরুদ্ধে WBCUPA তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দিতে আমন্ত্রিত অধ্যাপক, অধ্যাপিকা এবং WBCUPA-এর সভাপতি অধ্যাপক ব্রাত্য বসুর উপর এই বর্বর আক্রমণ শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য এক অশনি সংকেত। যারা গণতান্ত্রিক আলোচনার পথে না গিয়ে সন্ত্রাস ও হিংসার মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে চায়, তারা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। WBCUPA স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে, এই ধরনের গুন্ডামি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার দিন এসএফআইয়ের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন অধ্যাপক প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায়। সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন এসএফআই চিঠি দিয়ে ব্রাত্য বসুকে তাদের আবেদন জানায়। এরপরে আরও একটি দল এসে দেখা করতে চায়, ব্রাত্য বসু তাতেও অনুমতি দেন। তারা বলে চারজনে হবে না আরও প্রতিনিধি দেখা করতে চায়। এরপর তারা কোলাহল শুরু করে। এরপর যখন মন্ত্রী বেরিয়ে যাচ্ছেন তখন তারা আটকানোর চেষ্টা করে। গাড়ির সামনে পড়ে গিয়ে চাপা পড়ার নাটক করে। আমাদের সংগঠনের যে বিশালতা, তাকে ব্যবহার করে তারা খবর হতে চেয়েছে।
আরও খবর: সরকারি গাড়ির চুক্তিভিত্তিক চালকদের বেতন বৃদ্ধি, একনজরে নয়া তালিকা
সংগঠনের সহ-সভাপতি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুরে আমরা রাজত্ব দখল করতে যাইনি, যাদবপুর সাম্রাজ্য বিস্তার করতেও যাইনি। ওদের এটা পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। তার শিকার হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীকে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তাতে উনি যে কোনও সময় পড়ে যেতে পারতেন।
অধ্যাপকরা প্রশ্ন তোলেন, কোনও সুস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুস্থ পড়ুয়ারা কি আদৌ এই ধরনের শব্দ বন্ধ ব্যবহার করতে পারে? বিজেপি বামেদের বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই সেই লড়াইকে রুখে দেওয়াই কি তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল? যারা ঠেলাঠেলি করেছে তারা প্রকৃতস্থ অবস্থায় ছিল না।
একইসঙ্গে WBCUPA জানিয়ে দেয়, যাদবপুরেই তারা আবার সম্মেলন করবে। কোনও ভাবেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে রাখার বামেদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তোলার ডাক দেওয়া হয়।
–
–


























































































































