আগুন জ্বালানো ভারত-বিরোধিতায় কী হঠাৎ লাগাম টানার পথে বাংলাদেশ? নতুন বছরের শুরুতে নেতাদের বক্তব্যের ঝাঁঝ না কমলেও কর্মসূচিতে রাশ টানা তাদের আওয়ামি লিগ (Awami League) তথা ভারত বিরোধিতা থেকে পিছু হঠার বার্তা দেয়। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান দাবি করেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের মনে ভারত বিরোধিতা ঠাঁই না পায়, তা লক্ষ্য রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের গুরুত্বের কথাও জানান তিনি।
হিংসাত্মক অস্থিরতার পাশাপাশি এবার রাজনৈতিক মতবিরোধে বিদ্ধ বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস (Mohammed Yunus) পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনে জোর দেওয়ার পরই ক্ষমতা বদলের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবিধান (constitution) বদলের দাবিতে সরব হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতেই সংবিধান বদল করে আওয়ামী লিগকে (Awami League) নিষিদ্ধ করার মতো আইনের দাবি জানায় তারা। আর তাতেই বিরোধ বিএনপির (BNP) সঙ্গে।
ছাত্র আন্দোলন সংবিধান বদলের আন্দোলন শুরুর ঘোষণা করার পরই সমালোচনায় সরব বিএনপি (BNP)। রাতারাতি গুটিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা বদল ছাত্রনেতাদের (student leaders)। বছরের শেষ দিন জমায়েত হলেও তা একেবারে সম্মানহানিকর। আর সেখানে সংবিধান বদলের দাবিও গুটিয়ে রাখা হল। রাজনীতিকদের দাবি, বিএনপির বিরোধিতার পরই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী প্রচার চালানো ছাত্রনেতারা।
তবে নির্বাচন হোক বা না হোক, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত বলে ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা বারবার যে প্রচার চালাচ্ছেন তা একেবারে নস্যাৎ করে দিলেন হাসিনা সরকারের পতনের পরে দেশের দায়িত্ব নেওয়া সেনাবাহিনীর প্রধান (army chief) ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট বলেন দেশে এখনও আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব নেওয়ার মতো জায়গায় আসেনি পুলিশ (Bangladesh police)। ফলে সেনাবাহিনীকেই সেই কাজ করতে হচ্ছে।
সেই সঙ্গে দ্রুত রাজনৈতিক দলকে দেশের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দল পরিচালিত সরকার ও প্রশাসন ক্ষমতায় না এলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘোষণা করে ইউনূস (Mohammed Yunus) যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে সেনাবাহিনী সাহায্য করে যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাকে সীমিত রাখার আবেদন জানান। সরকার প্রতিষ্ঠার অপেক্ষা করার কথা জানান তিনি।
তবে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার সময়ে বিরোধী দলের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। একদিকে যখন বাংলাদেশে অগাস্টের পর থেকে এক নাগাড়ে আওয়ামি লিগের (Awami League) নেতা কর্মীদের হত্যা থেকে হাসিনা-মুজিবের ইতিহাস মুছে ফেলা নিয়ে তৎপরতা, তখন ওয়াকারের (Wakar uj Jaman) এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখবেই। ভারতের সঙ্গে বিরোধিতা না বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে সুবিধা আদায় করে নেওয়ার পক্ষে বার্তা দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তাঁর সতর্কবার্তা, বাংলাদেশের মানুষ যদি ভেবে ফেলে ভারত তাদের উপর কর্তৃত্ব করছে তবে তা বাংলাদেশের পক্ষে ক্ষতিকর। তাতে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা আরও বেড়ে যাবে, যা বাংলাদেশের পক্ষে ভালো হবে না।
–
–
–
–


























































































































