আরজি কর তদন্তে টাইমলাইন নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে, জবাব দিলেন রাজ্যের আইনজীবী

0
13

আর জি কর হাসপাতালে (RG Kar Medical College and Hospital)চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যুর পর থেকে শবদাহ পর্যন্ত প্রত্যেক মুহূর্তের টাইমলাইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সওয়াল -জবাব ডিভিশন বেঞ্চ এবং রাজ্যের আইনজীবীর। গত ৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চারতলার সেমিনার হলে প্রথম মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। এদিন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা চলাকালীন রাজ্যের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে ঘটনাস্থলে তল্লাশি এবং নমুনা সংগ্রহের কাজ কখন করা হয়েছিল? সময় ধরে ধরে গোটা বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (DY Chandrachud), বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চকে জানান আইনজীবী কপিল সিম্পল (Kapil Sibbal)।

হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যুর পর দেহের নমুনা সংগ্রহ থেকে ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া এমনকি শেষকৃত্য হওয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত শুনানিতে টাইমলাইন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকায় এ দিন ফের বিষয়টি উত্থাপন করেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের আইনজীবী জানান, ৯ অগস্ট রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তল্লাশি এবং নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকেরা। সিবিআই-এর তরফ থেকে এদিন জানানো হয় যে মৃতদেহ উদ্ধারের পর প্রথম পাঁচ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। কিন্তু সিবিআই যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন পাঁচ দিন অতিক্রান্ত। ফলে ঘটনাস্থলের পরিবর্তনের কারণে তাদের তদন্তে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জেনারেল ডায়েরির সময় নিয়ে আদালতে অসন্তোষ এবং সন্দেহ প্রকাশ করে মামলাকারীর আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বলেন, সকাল সাড়ে নটায় দেহ উদ্ধার হওয়ার ওর দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ঘটনার দিন দুপুর ২টো ৩০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শুধু জেনারেল ডায়েরিতে তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই টাইমস স্প্যান নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য তার জবাবে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে এই প্রক্রিয়া চলাকালী ঘটনাস্থলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হোক।

হাসপাতালের নিরাপত্তায় ডাক্তার-পুলিশ বৈঠক বৃহস্পতিবার, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

শুনানি চলাকালীন মৃত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী।সিবিআইয়ের তরফেও জানানো হয়, ময়নাতদন্ত ঠিক কখন করা হয়েছে, সেই সময়ের উল্লেখ করেনি রাজ্য। এরপর আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান গোপনীয়তার কিছু নেই, সবটাই উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য যে চালান হস্তান্তরের প্রয়োজন সে প্রসঙ্গে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানতে চাইলে সিবিআই জানায় যে তাদের কাছে কোন চালান নেই। রাজ্যের তরফে বলা হয় সেটি হাইকোর্টে বিচার চলাকালীন পেশ করা হয়েছিল। জেবি পার্দিওয়ালা এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে চালান যদি মিসিং হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি হওয়ার জায়গা রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে সিডিতে দেখানো হয়েছিল। অন্তত কাউন্সিল তেমনটাই জানাচ্ছে। পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যকে এই চালান সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার সিবিআইকেও পুনরায় স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিতে বলেন প্রধান বিচারপতি।