বুদ্ধদেবের প্রয়াণে বিষণ্ণ টলিউড, স্মৃতিচারণায় ঋতুপর্ণা- শ্রীলেখা থেকে গৌতম- অরিন্দম

0
18

দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের অবসান। চলে গেলেন বঙ্গ রাজনীতির জগতের ‘নিপাট’ ভদ্রলোক। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee)। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাতুস্পুত্র আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। রাজনৈতিক মতানৈক্যকে দূরে সরিয়ে তাঁর রুচিবোধ এবং সাহিত্যচর্চা নিয়ে আজও সর্বত্র আলোচনা। বুদ্ধ অধ্যায়ের অবসানে শোকস্তব্ধ টলিউড। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) জানান, ‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একজন বিরল মানুষ ছিলেন। তাঁর শিক্ষা সমাজকে উর্বর করেছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুতে রাজনৈতিক জগতের স্টল ওয়ার্ড বিদায় নিলেন বলে মন্তব্য জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর। তাঁর বিয়েতে শুভেচ্ছা জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সেকথাও মনে করান তিনি। এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি ছবি পোস্ট করেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘একজন সত্যিকারের ভালো গুনী মানুষ চলে গেলেন …ভালো থাকবেন .. বুদ্ধ বাবুর পরিবারের প্রতি রইল আমার আন্তরিক সমবেদনা।’

বাম জমানার শেষ মুখ্যমন্ত্রী, শেষ আইকনকে হারিয়ে ‘অভিভাবকহীন’ বামপন্থী শিল্পীরাও। স্মৃতির সরণিতে হেঁটে গিয়ে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (Kamaleswar Mukherjee) মনে করলেন বাংলার শিল্পায়নের কথা। এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে যান পরিচালক গৌতম ঘোষ (Goutam Ghosh)। তিনি বলেন, তাঁর বন্ধুবিয়োগে একটা অধ্যায়ের শেষ হল। সিনেমা জগতে বুদ্ধবাবুর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে দেব (Dev) মনে করালেন একজন ‘প্রকৃত নেতার’, একজন রুচিশীল প্রকৃত ভদ্রলোকের কথা। ‘শান্তিতে ঘুমোন আপনি’, লিখলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ।

অশীতিপর বুদ্ধবাবু গত কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বুধবার রাত থেকে সমস্যা বেড়েছিল। বৃহস্পতিবারের সকালে আর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো সময় দিলেন না। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শেষ হল জীবনযাত্রা। শোকবিহ্বল শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)কাঁদছেন। শোক সামলে পরিচালক অনীক দত্তর (Anik Dutta)মন্তব্য, “গভীর অন্ধকারে কোথাও এককোণে নিভৃতে একটা ছোট্ট প্রদীপ জ্বলছিল।সেটাও নিভে গেল। আজ শোকের থেকেও বেশি ক্রোধ হচ্ছে। ভয়ংকর রাগ হচ্ছে।” অরিন্দম শীল বললেন, ‘ বুদ্ধদেববাবু সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ ছিলেন। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় বারবার দেখা হয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে মুড়ি তেলেভাজা খেতেও আসতেন। বারবার সেই স্মৃতিই ফিরে আসছে।’ রূপম ইসলাম পত্নী রূপসা দাশগুপ্তও তাঁর ফেসবুকের পাতায় এদিন লেখেন, ‘ওঁর জীবনটাই সব থেকে বড় উদাহরণ ছিল সাধারণ ভাবে বেঁচে বড় ভাবনা চিন্তা করার।’

ধুতি-পাঞ্জাবিতে কতটা সাদমাটা মানুষ ছিলেন, সেকথাও উঠে এল রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের (Rupa Ganguly) স্মৃতিচারণায়। সোশাল মিডিয়ায় প্রোফাইল ছবি কালো করে নিজেকে বুদ্ধপন্থী বলে পরিচয় দিলেন জীতু কমল। শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা দেবদূত ঘোষও। বাম-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী এদিন শ্রদ্ধা জানালেন কমরেডকে। স্মৃতিচারণ করে তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘আমি বুদ্ধমামা বলতাম। মাঝে মাঝে ওঁর কাছে বকাও খেয়েছি। স্বচ্ছতার রাজনীতি উনি করতেন উনি, সেটা যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই।’ বুদ্ধদেব স্মরণে অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায় লেখেন, ‘সেই ছেলেবেলা থেকে যবে থেকে বুঝতে শিখেছি- ‘সুন্দর’ আসলে কাকে বলে, তখন থেকেই হাঁ করে চেয়ে থাকতাম- বুদ্ধদেব ভট্টাচায্যের দিকে। নন্দনের প্রবেশদ্বারে- আমাদের দিকে,অদ্ভুতভাবে তাকিয়েই সিগারেটের টুকরোটা নামিয়ে নিতেন। মৃদু হাসতেন। তখন তাঁর মনে কি চলতো? তাই নিয়ে- আমাদের মধ্যে তর্কের শেষ ছিলো না। কেন আমাদের দিতে চেয়ে এভাবে হাসতেন? আমাদের মধ্যেই কি কিছু খুঁজতেন তিনি? দেখতে চাইতেন বাংলার ভবিষ্যৎ? মূলত ওনাকে এক ঝলক দেখতে পাবো- এই জন্যই আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম।’ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রবীণ সিপিএম নেতার মরদেহ লাল পতাকায় মুড়ে শববাহী শকট পৌঁছে যায় পিস ওয়ার্ল্ডে। অভিজাত, রুচিশীল, সংস্কতিমনস্ক রাজনীতিককে হারিয়ে রং-দল নির্বিশেষে শোকবিহ্বল বিনোদন জগতের তারকারাও।