“যাঁরা অর্ডার দিয়েছিলেন তাঁরা পালিয়েছেন, মরছি আমরা”, আতঙ্কে কাঁদছে বাংলাদেশের পুলিশ

0
12

কোটা ও বৈষম্য বিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও এখনও অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। চলছে মৃত্যু মিছিল। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে জেলের তালা ভেঙে চম্পট দিয়েছে শয়ে শয়ে দাগী আসামি। থানাগুলিতেও আছড়ে পড়েছে উন্মত্ত জনতার ক্ষোভ। বাংলাদেশ পুলিশের (Bangladesh Police) বড় কর্তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেক পুলিশ কর্মী খুন হয়েছেন।

এরইমধ্যে কর্মবিরতির পথে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল দেশের পুলিশ মহলকে। কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ পুলিশ (Bangladesh Police) সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে প্রকাশ্যে নিজেদের অসহায়তার কথা বলছেন পুলিশ কর্মীরা। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক পুলিশ কর্মীর ভিডিও। সেখানে অঝোরে কাঁদতেও দেখা গেল তাঁকে।

ভিডিও বার্তায় ওই পুলিশ কর্মী কার্যত তাঁর উপর মহলের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, “আমাদের তো আদেশ মেনে চলতে হয়। ছাত্ররাও যেমন মারা গিয়েছে পুলিশও তেমন মারা গিয়েছে। আর যে সমস্ত পুলিশ মারা গিয়েছে তাঁরা কিন্তু নিম্ন পদস্থ সব কর্মী। যাঁরা অর্ডার দিচ্ছেন তাঁরা কিন্তু কেউ মারা যাননি। এখন পুলিশ দেশের জাতীয় ভিলেন। কিন্তু এই পুলিশ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম রাজাকারদের বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্যাটাক করেছিল। সেই গৌরবময় ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলা বাংলাদেশ পুলিশকে আজ জাতীয় ভিলেন করে দিয়েছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল।”

কাঁদতে কাঁদতেই ওই পুলিশ কর্মীর সংযোজন, “অনেক বড় বড় পুলিশ কর্তারা বড় বড় চেয়ারে বসে তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আমি এখন পুলিশ হলেও আগে আমি ছাত্র ছিলাম। আমি এখন একজন সন্তানের বাবা। একজন বাবা হিসাবে আমি এটা মেনে নিতে পারি না। আমার ভাইয়েরা মারা গিয়েছে। পরিবারে হাহাকার। এগুলো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

এদিকে আজ, বৃহস্পতিবার মহম্মদ ইউনুসকে সামনে রেখেই বাংলাদেশে তৈরি হতে চলেছে অন্তবর্তী সরকার। ইউনুসই হবেন প্রধান।

আরও পড়ুন:গণভবন থেকে হাসিনার সোনার চেন লুঠ! বাড়ি ফিরে ভিডিও করতেই বিতর্কের মুখে মহিলা ব্লগার