মোদির অতি প্রচারে হার বিজেপির! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

0
20

মাঠে, ময়দানে, খবরের কাগজে, চ্যানেলে লোকসভা ভোটের আগে জোরদার প্রচার করে বিজেপি (BJP)। বাংলা-সহ বিভিন্ন জায়গায় ডেইলি প্যাসেঞ্জরি করেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পরেই সামনে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে যে রাজ্যে বেশি প্রচার করেছেন মোদি, সেখানেই বিপুল ধস নেমেছে পদ্মশিবিরের ভোটে। বাংলা থেকে মহারাষ্ট্র- তালিকায় রয়েছে আরও রাজ্য।

নির্বাচন ঘোষণার পর বাংলায় মোট ২০টি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন মোদি (Narendra Modi)। তার আগে মার্চও এরাজ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে মোট ২৪টি নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার মধ্যে ২৩টি জনসভা, একটি রোড শো। ১ জুন লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণের আগে কলকাতা উত্তরের প্রার্থী তাপস রায়ের হয়ে রোড শো করেছিলেন মোদি। সেই সফরে আরও ৩টি জনসভাও করেন তিনি। তার কোনওটাতেই ফোটেনি পদ্ম। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, মালদহ উত্তর কেন্দ্রে সভা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। উত্তরে অবশ্য কয়েকটি আসন জিতেছে বিজেপি। তবে দক্ষিণবঙ্গের কৃষ্ণনগর, হাওড়া, আরামবাগ, হুগলি, ব্যারাকপুর, বারাসত, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বোলপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, যাদবপুর এবং মথুরাপুর কেন্দ্রে সভা করেছিলেন মোদি। এর মধ্যে শুধু পুরুলিয়া এবং বিষ্ণুপুরে বিজেপি জিতেছে। সব মিলিয়ে প্রচারের হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মসূচি ছিল বাংলাতেই। আর এই রাজ্যে ২০১৯-এ যেখানে বিজেপি ১৮টি আসনে জিতেছিল, এবার সেই সংখ্যা নেমে আসে ১২-তে।

দেশের মধ্যে যোগী রাজ্যে সবথেকে বেশি নির্বাচনী কর্মসূচি ছিল নরেন্দ্র মোদির। উত্তরপ্রদেশ থেকে নিজেও ভোটে লড়েন তিনি। সেখানে ৩১টি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। সেখনে বিজেপির আসন সংখ্যা ৬২ থেকে ৩৩ নেমে এসেছে। যে অযোধ্যার রামমন্দিরকে ইস্যু করতে চেয়েছিল বিজেপি, সেখানই হরেছে গেরুয়া শিবির।

প্রচার কর্মসূচির নিরিখে চতুর্থ স্থানে ছিল মহারাষ্ট্র। ১৯টি নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি অংশ নেন মোদি। সেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ২৩ থেকে নেমে এসেছে ৯। অর্থাৎ এই তথ্য থেকে স্পষ্ট ব্রান্ড মোদিই ব্যর্থ। শুধু সংখ্যা তত্ত্বের হিসেবেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে তৃতীয়বার বসবেন। কিন্তু মানুষের রায়ে তার পক্ষে যায়নি।