এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিটের বৈঠক শেষ, মুম্বইয়ে মাতশ্রী থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই নিয়ে মিডিয়ার সামনে কোনও মন্তব্য না করলেও ইন্ডিয়া জোটকে আরও মজবুত করতেই যে উদ্ভব এবং আদিত্যর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা সারলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তেমনটাই করছে রাজনৈতিক মহল। দিনভর রাজধানী দিল্লিতে দাপিয়ে বেড়ালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার, সকালেই সমাজবাদী পার্টি (SP) ও আপ (AAP) নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন এদিন সকালে অভিষেক। প্রথমে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে যান সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের (Akhilesh Yadav) বাড়ি। এরপর দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বাসভবনে যান আপ নেতা তথা সাংসদ রাঘব চাড্ডা ও সঞ্জয় সিং। সন্ধেয় শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরের ডাকে মুম্বই যান তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট উদ্ভব ঠাকরের সঙ্গে আলোচনা করেন অভিষেক। উপস্থিত ছিলেন উদ্ধব-পুত্র বিধায়ক আদিত্য ঠাকরেও। ইন্ডিয়া জোটকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে কীভাবে এগোনো যাবে এবং বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা সম্ভব হবে তাই নিয়েই এই বৈঠক বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের মানুষ। জনমত গিয়েছে মোদির বিরুদ্ধে। সেই কারণে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ করবে INDIA। বুধবার, জোটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সেই বৈঠকেও আলাদা করে নজর কাড়েন অভিষেক। লোকসভা নির্বাচনে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ের নিরিখে প্রথম সারিতে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ )TMC MP)। খাড়গের বাসভবনে জোটের বৈঠকেও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছেন অভিষেক। তাঁকে দেখেই হাত মিলিয়ে পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, ওমর আবদুল্লাহ মতো নেতৃত্ব।

এদিন সকাল থেকেই শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলি নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। সকালে অখিলেশের বাড়ির সামনে অভিষেক গাড়ি থেকে নামতেই নিজে এগিয়ে আসেন সপা সুপ্রিমো। হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যান তাঁকে। ডেরেকও ছিলেন সেই বৈঠকে। প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক চলে। বৈঠকের পরে তৃণমূলের তরফ থেকে এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে জানানো হয়। অখিলেশের সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক সবসময়ই খুব ভালো। এবার INDIA-র বৈঠকে তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেককে পাঠিয়েছেন মমতা। সেক্ষেত্রে অখিলেশের সঙ্গে অভিষেকের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলা ও উত্তরপ্রদেশে দুটি জায়গাতেই বিজেপি দর্পচূর্ণ করেছে তৃণমূল ও সপা।
এরপরেই আপের রাঘব চাড্ডা ও সঞ্জয় সিং যান অভিষেকের দিল্লির বাসভবনে। তাঁদের সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ বৈঠক করেন অভিষেক। দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ সুপ্রিমো জেলবন্দি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও তৃণমূল সভানেত্রীর সুসম্পর্ক। কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির বিরোধিতায় বারবার সরব হয়েছেন মমতা-অভিষেক। দিল্লির লোকসভা নির্বাচনে আপ ভালো করতে না পারেও সরকার তাদেরই। পঞ্জাবেও ক্ষমতায় রয়েছে তারা। সেক্ষেত্র শক্তিশালী আঞ্চলিক দল হিসেবে জোটে রয়েছে আপ।
রবিবার সন্ধেয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। সংসদের প্রথমদিন থেকেই এনডিএ সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল সাজাচ্ছে INDIA। আর সেই জোটের উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে উঠেছেন অভিষেক। আরও দলীয় সাংসদদের নিয়ে গত মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়াতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যে তাঁর ভূমিকার চর্চা হয়েছে রাজধানীতেও। তারই প্রতিফলন পাওয়া গেল অভিষেকের দিল্লি সফরে। সেখানেও নজরে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।





































































































































