সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের অধিকার। অথচ সেই পরিষেবায় শুধুমাত্র নিজের ছবি দিয়ে প্রচার করার জন্য রাজকোষ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৫ কোটির বেশি খরচ করে ফেলেছে মোদি সরকার! ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (FCI) ব্যাগে নরেন্দ্র মোদির মুখ ছাপাতে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্যের জন্য সরকারি ভাঁড়ার থেকে খরচ করা হয়েছে ১৫ কোটি। এখনও বাংলা বা অন্যান্য রাজ্যে এই সংক্রান্ত টেন্ডার হওয়াই বাকি রয়েছে। অর্থাৎ খরচের বোঝা আরও বাড়াতে চলেছে কেন্দ্র সরকার, যার সবটাই জনগনের ট্যাক্সের টাকা।

বাংলায় দুদিনের জন্য নির্বাচনী হাওয়া গরম করার মাঠে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন কেন্দ্র সরকারের একাধিক প্রকল্প রাজ্যে বাস্তাবায়িত হতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। অথচ স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা থেকে রেশন – সেই সব ধরনের প্রকল্পে রাজ্যের মানুষ কেন্দ্র সরকারের সমান, কোথাও কোথাও কেন্দ্রের থেকে বেশি পরিষেবা পাচ্ছেন। রাজ্যের সেই সব প্রকল্প বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে তুলে ধরে পার্থক্য দেখিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কেন্দ্রের প্রকল্প না নেওয়ার পিছনে রাজ্যের যুক্তি ছিল প্রকল্পে সাধারণ মানুষকের পরিষেবা দেওয়ার আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধুই তাঁদের প্রচারে নজর দিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে দাবি করেছিলেন কখনও গেরুয়া রঙের বাড়ি, নরেন্দ্র মোদির ছবি দেওয়া ব্যাগ না দিলে পরিষেবা দেবেই না কেন্দ্র। সম্প্রতি একটি আরটিআই-এর (RTI) প্রেক্ষিতে দেখা গেল শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদির ছবি দেওয়া ব্যাগে রেশনের (ration) সামগ্রী দেওয়ার জন্য সিকিম, রাজস্থান, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরার জন্য এফসিআই-এর খরচ হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা। মেঘালয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে যে সংস্থাকে এই বরাত দেওয়া হয়েছে তাতে প্রতিব্যাগের দাম ১২.৫০ টাকা। মিজোরাম ও ত্রিপুরায় প্রতি ব্যাগের দাম ১৪.৩০ টাকা। সিকিমে দাম দিতে হচ্ছে ১৪.৬৫ টাকা ও রাজস্থানে ১২.৩৭ টাকা।

বাংলার জন্য এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি জানা গিয়েছে আরটিআই-এর মাধ্যমে। তবে এই ব্যাগ ছাড়া দেওয়া হবে না কেন্দ্রের রেশন। ঠিক যেমন কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রক দাবি করেছিল হাসপাতালগুলিকে গেরুয়া রঙ ও কেন্দ্রের লোগো ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে পরে রাজ্যের স্বশাসিত স্কুলগুলিতে গেরুয়া রঙ ও লোগো (logo) লাগানোর নির্দেশ আসে। এত বিপুল পরিমাণ রঙের জন্য কোনও বরাদ্দ করা হয়নি কেন্দ্রের তরফে। তারওপর যে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্কুল সম্প্রতি রঙ করা হয়েছিল, তাদেরও আবার টাকা খরচ করে রঙ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে রাজ্যের ভাঁড়ার থেকে সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করেনি রাজ্য। যদিও সাধারণ নাগরিকের টাকা অপচয় করতে গায়ে লাগে না কেন্দ্রের, তার ওপর তাতে যদি মোদির প্রচার হয় তাহলে তারা দেদার খরচ করতেও রাজি, আরটিআই-এর উত্তর তারই প্রমাণ।



































































































































