যাত্রায় ‘অনুমতি’ নিয়ে দুই তিমিরে জয়রাম-অধীর! মাধ্যমিকের কারণে বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডে রাহুল

0
12

“কথায় আছে গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল”! আর সেকথাই ফের প্রমাণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chaudhury)। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা(Bharat Jodo Nyay Yatra) উপলক্ষ্যে বাংলায় এসেছেন কংগ্রেস (Congress) নেতা রাহুল গান্ধী(Rahul Gandhi) থেকে শুরু করে দলের হাইকম্যান্ড। আর সেই যাত্রায় নিজেকে একেবারে ‘শাহেনশাহ’ প্রমাণ করার মরিয়া প্রচেষ্টা অধীরের। আগেই তাঁর একাধিক মন্তব্যের খেসারত দিয়েছে দল। এমনকি লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Election) আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির একের পর এক মনগড়া মন্তব্যের কারণে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধি দলগুলোর কাছেও যথেষ্ট মাথা হেঁট হয়েছে জাতীয় কংগ্রেসের। তবুও এতটুকু শিক্ষা হয়নি তাঁর। এবার কোনও বিরোধী নয়, ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা নিয়েই প্রকাশ্যে দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা যাত্রার অগ্রভাগে থাকা জয়রাম রমেশের (Jairam Ramesh) সঙ্গে মতপার্থক্য অধীরের। যে ছবি সামনে আসতেই বেশ বেকায়দায় কংগ্রেস থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।

যদিও এদিন রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানান, আইন মেনে আমরা কাজ করব। আর সেকথা শুনেই পাল্টা মতপ্রকাশ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। তিনি পরিষ্কার জানান, মাধ্যমিক শুরু হয়েছে শুক্রবার, ইতিমধ্যে চালু পরীক্ষা। তবুও পরীক্ষার মধ্যেই নাকি সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে যাত্রার অনুমতি দিতেই হবে পুলিশকে। আর তা নিয়েই সরব হন অধীর। তবে লোকসভা নির্বাচনের আগে অধীরের এই রণংদেহী মেজাজ এক মুহূর্তে ফানুস হয়ে যাবে না তো? এমনই মত বিরোধীদের। শুক্রবার রাজ্যে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কায় যাত্রায় বেরিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় বাধার মুখে পড়ছেন রাহুল গান্ধী। যদিও আগে থেকে বীরভূমে এই যাত্রার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের তরফেও স্পষ্ট জানানো হয় কোনওভাবেই বীরভূমে রাহুলের যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। এরপরই চরম ক্ষেপে যান অধীর।

 

শুক্রবার সকালে কংগ্রেসের যাত্রা বাধাপ্রাপ্ত হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই যাত্রার জন্য কী কী পুলিশ করলে ভালো হত? আগামীদিনে কী পরিণতি হতে পারে এসব নিয়ে একের পর এক বাজার গরম করা কথা বলতে থাকেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। এদিকে শুক্রবারই যে রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে সেকথা মাথাতেই নেই অধীরের। কিন্তু যতই হোক বাংলায় এসেছে কংগ্রেসের হাইভোল্টেজ যাত্রা। আর বাংলায় অধীর যে এতটা ‘দাদাগিরি’ দেখাবেন তা হয়তো ভাবতেও পারেননি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুক্রবার পুলিশ যাত্রার অনুমতি না দিলে এতদিন পুলিশের বিরুদ্ধে বলা লাগাতার অপপ্রচার ভুলে পাল্টা পুলিশের কাছেই জোর করে রাহুল গান্ধীর যাত্রার অনুমতি চাইতে দেখা যায় অধীরকে। এদিন মুর্শিদাবাদ থেকে বীরভূমের দিকে যাওয়ার কথা ছিল ভারত জড়ো ন্যায় যাত্রার। এমনকী গাড়িতে চেপে যাওয়ার সময় অনুগামীদের দিকে হাতও নাড়াতে পারবেন না রাহুল, প্রশাসনের তরফে তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে সাফ জানানো হয়, পুরো কনভয় না নিয়ে তিনটে গাড়ি করে রাহুল গান্ধীকে ঝাড়খণ্ড নিয়ে চলে যাওয়া হোক। কোনওরকম র‍্যালি করা যাবে না। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্মসূচি করা যাবে। এখন যেতে হলে দুটো কিংবা তিনটে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। আর একথা শুনেই মাথায় বাজ পড়ে অধীরের। পরে উপায়ান্তর না পেয়েই পুলিশের কাজের প্রশংসা শোনা যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির গলায়। যদিও অধীরের কোনও কথাতেই চিঁড়ে ভেজেনি। যদিও এরপরও পুরো গাড়ির কনভয় নিয়ে রাহুল গান্ধী বের হন। গাড়ি সোজা ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যায়।