I.N.D.I.A.-র সঙ্গে দূরত্ব বেঙ্গল লাইনের? সিপিএমের প্রতিষ্ঠা দিবসে আমন্ত্রিত নন ইয়েচুরি!

0
11

I.N.D.I.A. জোটের রয়েছে সিপিএম। এখনও পর্যন্ত যে তিনটে বৈঠক হয়েছে তাতে সশরীরে উপস্থিত থেকেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (Sitaram Yechuri)। আর এই নিয়ে আলিমুদ্দিনকে বেশ কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে? গোঁসা হয়েছে দলের নীচুতলার কর্মীদের। সেই কারণেই সম্ভবত সিপিএমের (CPIM) বেঙ্গল লাইনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ইয়েচুরি। কারণ ১৭ অক্টোবর দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধান বক্তা প্রকাশ কারাত, সীতারামকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি!

১৭ অক্টোবর সিপিএমের (CPIM) প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে হবে কর্মসূচি। প্রধান বক্তা প্রকাশ কারাত। যদিও দীর্ঘদিন তাঁকে বঙ্গ রাজনীতিতে দেখা যায়নি। পরপর নির্বাচন হয়েছে বাংলায়। ব্রিগেডে সমাবেশ হয়েছে। যদিও তার প্রভাব পড়েনি ইভিএমে। তবু সেখানে সারা ভারত থেকেই বাম নেতারা উপস্থিত হয়েছেন। এসেছেন সীতারামও। কিন্তু সেখানেও প্রকাশ কারাতের দেখা মেলেনি। অথচ ইন্ডিয়া জোটে ইয়েচুরির উজ্জ্বল উপস্থিতির পরেই প্রতিষ্ঠা দিবসে আসছেন প্রকাশ।

পাখির চোখ লোকসভা নির্বাচন দিল্লির মসনদ থেকে মোদি সরকারকে হঠাতে গঠন হয়েছে ইন্ডিয়া জোট। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব মতোই ১২ জুন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পাটনার বাড়িতে প্রথম বৈঠক বসে। এরপর I.N.D.I.A জোটে বৈঠক হয় বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইয়েচুরি। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সভানেত্রীও। বৃহত্তর স্বার্থ না বুঝে এই বিষয় নিয়েই জল ঘোলা শুরু করেছে বঙ্গ সিপিএম। আর তখন থেকেই রাজ্যের কোনও কর্মসূচিতে আসেননি সীতারাম ইয়েচুরি। অথচ পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে বেঙ্গল লাইনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদকই।

আর পড়ুন:  ইজরায়েলে গবেষণা করছে ছেলে বৌমা, উত্তরপাড়ায় দুশ্চিন্তায় বৃদ্ধ মা বাবা

নীচুতলার কর্মীদের মান ভাঙাতে দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নাকি সীতারাম এর চুরিকে আমন্ত্রণই জানায়নি আলিমুদ্দিন! যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি সিপিএম নেতৃত্ব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়ে সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার জানান, ১৭ তারিখ বক্তা হিসেবে থাকবেন প্রকাশ কারাত। এখনও পর্যন্ত এটাই ঠিক রয়েছে।

তবে এখন না এলেও, সূত্রের খবর সীতারাম ইয়েচুরি নভেম্বর মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখ হাওড়ায় রাজ্য সিপিএমের বর্ধিত অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন।

বেঙ্গল লাইন আর জাতীয় রাজনীতি- সিপিএমের এই দ্বন্দ্ব কোনও কালেই মেটেনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেই সেই সময় জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বাধা দেয় পলিটব্যুরো- এমনটাই রাজনৈতিক মহলের মত। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও শাস্তির খাঁড়া নেমে আসার এটাও একটা কারণ বলে মনে করেন অনেকে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে বাংলার দলাদলি ভুলে এক জোটে লড়াইয়ের যে বার্তা ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতৃত্ব দিতে চাইছেন, সিপিএমের বেঙ্গল লাইন তার উল্টো পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। ইয়েচুরিকে ব্রাত্য করে রাখা তারই একটা প্রতিফলন বলে মত রাজনৈতিক মহলের।