নবান্নের (Nabanna) সঙ্গে রাজভবনের (Rajbhawan) সংঘাত আরও চরমে পৌঁছল। শুক্রবারই রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য সিভি আনন্দ বোসকে (CV Anand Bose) কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়ালেন রাজ্যপাল। সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে রাজ্যপাল রাতে আরও বড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন। শনিবার দুপুরে রাজ্যপাল বলেন, আমি যে কাজ করছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আজ মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আপনারা দেখতে পাবেন, কী করতে চলেছি…। তবে এর পাল্টা এক্স হ্যান্ডেলে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, সাবধান সাবধান! শহরে নতুন রক্তচোষা বেরিয়েছে। নাগরিকরা সতর্ক থাকবেন। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, ভারতীয় মাইথোলজিতে একে বলে রাক্ষস প্রহর! তার অপেক্ষায় রয়েছি।
"See till midnight, see the action"
BEWARE! BEWARE! BEWARE!
New Vampire in the town! Citizens please watch yourselves. Eagerly waiting for the "Rakkhas Prahar", according to Indian Mythology! 😱 😳— Bratya Basu (@basu_bratya) September 9, 2023
শুক্রবারই ব্রাত্য বসু অভিযোগ তোলেন, রাজ্যপাল স্বেচ্ছাচারী। রাজ্যপাল পদের অপব্যবহার করছেন সি ভি আনন্দ বোস। বিকাশ ভবনে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির রেজিস্ট্রারদের নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সরাসরি আচার্য তথা সিভি আনন্দ বোসকে তোপ দাগেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তবে এদিন রাজ্যপালের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে পাল্টা তোপ দাগেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি জানান,শিক্ষা নিয়ে যে বিষয়টি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অবাঞ্ছিত ঘটনা। বিজেপি মহামান্য রাজ্যপালকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের এজেন্ট হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে অন্ধকারে রেখে একতরফা এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করে যাচ্ছেন। যেভাবে তিনি এদিন ‘মধ্যরাতের’ হুমকি দিয়েছেন তা ‘নিশাচরীয় হুমকি’। নিশাচররাই এভাবে হুমকি দেন। ওনার পদক্ষেপ নেওয়ার হলে উনি নিশ্চয় তা নেবেন। তবে এমন হুমকি যে বিপজ্জনক তাও এদিন মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। আমরা বারবার জানিয়েছি রাজ্যপাল এমন না করে শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। কিন্তু তা না করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে এভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি যেভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, উনি রাজ্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না। প্যারালাল সরকার চালাচ্ছেন। একেবারে তুঘলকি কাজ শুরু করেছেন রাজ্যপাল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অঙ্গুলিহেলনে রাজ্যে ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তবে এটা জেনে রাখা উচিত রাজ্য সরকারের সাহায্যেই রাজভবন চলে। আর রাজ্য টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে ওনার অবস্থা হবে একবার কী উনি ভেবে দেখেছেন? এরপরই তিনি সাফ জানান, এটা নিশাচরীয় হুমকি। ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। এসব না করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করুন।

শুক্রবারই রেজিস্ট্রারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন ব্রাত্য বসু। তাঁকে মহম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের পদ্ধতির সমালোচনা করার সময় এই তুলনা টেনেছিলেন ব্রাত্য বসু। শনিবার সেই মন্তব্য নিয়ে রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হলেই, মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য চরম বার্তা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের এই হুঁশিয়ারির থেকেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে শিক্ষামহলের একাংশের অনুমান, আজ মধ্যরাতে রাজভবনের তরফে বড় কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে শিক্ষামন্ত্রীকে কেন ‘জাঁতাকলে’ ফেলার ষড়যন্ত্র করছেন রাজ্যপাল তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্নের মুখে রাজ্যপাল। রাজভবনের একটি সূত্র বলছে, রাজ্যপাল শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তের সুপারিশ করতে পারেন। আইন অনুযায়ী তিনি তা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কী হবে তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে।








































































































































