গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে (বিশেষ করে সোমবার) শিবভক্তরা ভক্তি ভরে মহাদেবের পুজো-অর্চনা করে থাকেন। বিশেষ করে এই বাংলার বুকে সেই রীতি-আচারের ব্যাপক প্রচলন আছে। সেইমতো ঈশ্বর বিশ্বাসী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় জাগ্রত নকুলেশ্বর ভৈরব মন্দিরে আজ, সোমবার পুজো দেন।
কিন্তু রাজনীতিতে পেরে না উঠে বিজেপির রাজনীতির কারবারিরা মুখ্যমন্ত্রীর সেই পুজো দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার পথ বেছে নেয়। বিজেপির লাখ টাকার বেতনভোগী অমিত মালব্য টুইটারে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তবে পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অমিত মালব্য টুইটে লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে হিন্দু ধর্মের আচার ও বিশ্বাসকে অবমাননা করেন তা না জেনে নয়। হিসেব কষে তিনি হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ককে খুশি করতেই এমনটা করে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু নবজাগরণের অনেক আন্দোলনের সাক্ষী। কিন্তু সেখানে তিন দশক ধরে বামেরা রাজ্যের অবস্থা শোচনীয় করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতার সময় অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
কিন্তু কেন এমন টুইট? ছেঁদা যুক্তি খাড়া করেছে গেরুয়া শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে পুজো দিয়েছেন। এতেই নাকি ঘোর আপত্তি বিজেপি নেতাদের। অমিত মালব্য ছাড়াও বাংলার রাজ্য ও জেলাস্তরের নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর পুজো দেওয়ার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। একই ভিডিও পোস্ট করে কলকাতা পুরসভার এক আঁতেল বিজেপি কাউন্সিলর লিখেছেন, “এই পুজোটা পাওয়া মাত্রই ঈশ্বর পরলোকে গমন করিলেন”।
তবে এই ভণ্ডামির জবাব দিয়েছে তৃণমুলও। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটার হ্যান্ডল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো দেওয়া নিয়েও বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পা ও কোমরে চোট লেগেছিল। যন্ত্রণা থাকায় তিনি দাঁড়িয়ে পুজো দেন। যদিও সেই ঘটনা বিজেপির প্রোপাগান্ডা চালানো ‘শকুনের দৃষ্টি সম্বলিত’ ব্যক্তিদের নজর এড়ায়নি বলে দাবি শাসক দলের।
এক্ষেত্রে নকুলেশ্বর ভৈরব মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বক্তব্য তুলে ধরে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। পুরোহিত বলেছেন, এই মন্দিরে শিবলিঙ্গ গর্ভগৃহে অনেকটা নীচে রয়েছে। তাই অনেকেই দাঁড়িয়ে পুজো দেন। রীতি-আচার মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো দিয়েছেন।
পুরোহিত আরও দাবি, এখানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এসেও একবার পুজো দিয়েছিলেন। এবং সেটা দাঁড়িয়েই। অমিত মালব্য সেই ভিডিওটি যদি একটু ছাড়েন, তাহলে বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়, রাজনীতি করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বিজেপি।
আরও পড়ুন- ১ মিনিটে ৪৫ জন যাত্রী! হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশনে বসল QR Code যুক্ত গেট



































































































































