ওড়িশার বালাসোরে করমণ্ডল শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। যার আঁচ সবচেয়ে বেশি পড়েছে বাংলায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। এই দুর্ঘটনার জন্য সিগন্যালিং ব্যবস্থার বড়সড় গাফিলতি ছিল বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ঘটনার পরই দুই রেল আধিকারিকের একটি চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ সামনে আনেন কুণাল। সেই অডিও ক্লিপে সিগন্যালিং নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন রেলের আধিকারিকরা।

কুণাল ঘোষের টুইট করা ওই অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে অশোক আগরওয়াল নামে এক দক্ষিণ পূর্ব রেলের আধিকারিকের নাম শোনা যাচ্ছে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আরেক রেলের আধিকারিক। তাঁর নাম অবশ্য জানা যায়নি।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ট্যুইটারে লেখেন, ‘”অডিওর সত্যতা যাচাই হয়নি।” ”তবে, বড়সড় গোলমাল আছে, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ” বলেও দাবি করেছিলেন কুণাল ঘোষ।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, “তৃণমূলের মুখপাত্র কীভাবে পেলেন অডিও ক্লিপ, সেটাও সিবিআই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। রেলের দুই আধিকারিকের কথোপকথন তাঁরা কেউ রেকর্ড করেননি। ফোন ট্যাপ করে সেই কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে, এটাও তদন্তের আওতায় রাখা উচিত।” শুভেন্দুর আরও দাবি, কলকাতা পুলিশের এসটিএফ রেল আধিকারিকদের ফোন ট্যাপ করে তা তৃণমূলকে দিয়েছে। যদিও শুভেন্দুর সেই অবান্তর মন্তব্য আগেই ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শুভেন্দুকে ছ্যাঁকা দিলেন কুণাল ঘোষ। আজ, মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল শুভেন্দুকে তোপ দেগে লেখেন, ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখনি। তাঁর কথায়, “আমি দুই রেল অফিসারের অডিও ক্লিপ টুইট করেছি। বেশ করেছি। তদন্ত হলে বুঝে নেব। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী তো কেন্দ্রের সরকারের জোরে সব ফোন, কল রেকর্ডের কথা বলে বেড়ায়। এই পেগাসাস অধিকারী গ্রেপ্তার হবে না কেন? কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুঁড়ো না দলবদলু CBI FIR Named. ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখনি এখনও।”

এখানেই শেষ নয়। আরও একটি টুইটে শুভেন্দুর আগের একটি ভিডিও পোস্ট করে তা সিবিআইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কুণাল। যেখানে শুভেন্দুকে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বলতে শোনা যাচ্ছে, তাঁর হাতে প্রত্যেকটি ফোন নম্বর, কল রেকর্ড আছে। এবং কেন্দ্রের সরকারও তাঁর হাতে। এ প্রসঙ্গে টুইটে কুণাল খেলেন, “CBI-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা বলছেব যে, তাঁর কাছে অন্যদের ফোন কল রেকর্ড রয়েছে, এবং তিনি এটাও বলছেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে তিনি সেগুলি পাচ্ছেন। সুতরাং, যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং পেগাসাস সম্পর্কিত মামলা, তাই অবিলম্বে তদন্তের প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন:ডানকুনিতে আ*গুন! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নাজেহাল দমকলকর্মীরা











































































































































