ফের অ্যা*ডিনোভা*ইরাসের সংক্রমণে শিশুমৃ*ত্যু

0
11

আবারও বিসি রায় হাসপাতালে (BC Roy Hospital) মারা গেল ১১ মাসের এক শিশু। শাসনের বাসিন্দা ওই শিশুটি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ভুগছিল। গত রবিবার বিসি রায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।শিশুটির দেহে অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছিল।বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় শিশুটির।অন্যদিকে, অ্যাডিনো আতঙ্কের মধ্যেই শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ দশ মাসের এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয় বিসি রায় হাসপাতালে। শিশুটির পরিবারের দাবি, বারাসতের ওই শিশু কন্যা গত দুই সপ্তাহ আগে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। শিশুটির ফুসফুসের সংক্রমণও ছিল। যদিও কেন শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে এখনও হাসপাতাল তরফে কিছু জানা যায়নি। ফলে শিশুর মৃত্যুর কারণ, অ্যাডিনোই ছিল কি না, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবারই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অ্যাডিনোভাইরাস রোধে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।নয়া এই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে কী কী পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে সে নিয়ে প্রায় রোজই স্বাস্থ্যসচিব, রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মমতা। কালকের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘অ্যাডিনোভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না।’

আরও পড়ুন:অ্যাডি*নো ভাই*রাস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পথে নামলেন কাউন্সিলর সচিন সিং

ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ও মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, অ্যাডিনোভাইরাসের মোকাবিলায় যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তা দেরি না করে করতে হবে। যদি নতুন কোনও নির্দেশাবলি বহাল করতে হয়, তাও যেন করা হয়। ভাইরাস ঠেকাতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে নতুন অ্যাডভাইসরিও জারি করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী বলেছেন, ভাইরাল জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ায় এখনও অবধি পাঁচ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত। এর মধ্যে মাত্র ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশনের কারণে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রতিটি হাসপাতালকে বিশেষ নজর দিতে হবে। শিশু হাসপাতাল তো বটেই, মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল-সহ প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখতে হবে ‘অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন’ অর্থাৎ এআরআই চিকিৎসার ব্যবস্থা। এআরআই চিকিৎসার জন্য রাজ্যের ১২১টি হাসপাতালে পাঁচ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে এই মুহূর্তে ৬০০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডিউটিতে থাকবেন। ওপিডি-তে রাখতেই হবে অন্তত একজন শিশুরোগ চিকিৎসককে। ২৪৭৬টি ‘সিক নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিট’, ৬৫৪টি পিআইসিইউ বেড ও ১২০টি এনআইসিইউ বেড তৈরি রাখা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হবে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে।