বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়কের নিদানের পরেই বালুরঘাটে পদ্মশিবিরের হাতে আক্রান্ত বিডিও

0
9

রাজনীতির ময়দানে পায়ের তলায় জমি না পেয়ে এবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের মারের নিদান দিচ্ছেন বিজেপি বিধায়করা। BDO-র অফিসে গিয়ে তাঁকে গণধোলাই ও পুলিশকে (Police) গাছে বাঁধার হুঁশিয়ারি দিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার (Swapan Majumder)। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বালুরঘাটের অফিসে ঢুকে বিডিও অনুজ শিকদারকে (Anuj Shikdar) মারধর করলেন বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার।

সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা বনগাঁ ব্লক অফিসে আবাস যোজনা নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয় BJP। তার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বেলাগাম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আগামী দিনে মানুষের কাজ সঠিকভাবে না করার কারণে গেট ভেঙে আপনার ঘরে গিয়ে গণধোলাই দেবে সাধারণ মানুষ।“ পাশাপাশি পুলিশের উদ্দেশ্যে তাঁর নিদান, “আগামীতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষ আপনাদের গাছে বেঁধে রাখবে।“ বিজেপির বিধায়কের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা শুরু হয়। আর তার মধ্যেই পদ্ম শিবিরের হাতে আক্রান্ত হলেন বিডিও।

বালুরঘাট বিডিও অফিসে ঢুকে বিডিও-কে চেয়ার ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। বিডিও অনুজ শিকদার জানান, এদিন দুপুরে অফিসে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, আচমকা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার তাঁর ঘরে ঢোকেন এবং হঠাৎ ঘরে থাকা চেয়ার বিডিও-র দিকে ছুড়ে মারেন। সুভাষ সরকার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। মাথায় ও আঙুলে প্রবল আঘাত পান বিডিও। আওয়াজ পেয়ে অন্যান্য কর্মচারীরা বিডিও-র ঘরে পৌঁছলে অফিস চত্বর থেকে বেরিয়ে যান অভিযুক্ত বিজেপি নেতা।

বালুরঘাট থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা-র নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী বিডিও অফিসে পৌঁছয়। কেন এই আক্রমণ জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অনুজ শিকদার।

তবে, এইভাবেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজ্যে বিজেপি আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। এদিনই বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও শান্ত। ফলে এই আর্জি ধোপে টিকবে না। এই আশঙ্কাতেই আবার রাজ্যজুড়ে গেরুয়া শিবির অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। সেই কারণেই এই ধরমনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল (TMC) সভাপতি তথা বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস তীব্র আক্রমণ করে বলেন, বনগাঁয় রাজনৈতিক জমি হারাতে চলেছে বিজেপি। গত কয়েকটি রাজনৈতিক সভায় তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিত বিজেপি নেতাদের ঘুম কেড়েছে। সেই সঙ্গে নাগরিকত্বের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়াতেও মতুয়ারা বিজেপির ভাঁওতা বুঝে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করছে। ফলে বিজেপি নেতাদের রাজনৈতিক জমি টলমল করছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়েই এমনই কটু মন্তব্য করছে। একজন বিধায়কের বাকসংযম থাকা দরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে রাজ্যের উন্নয়ন করে চলেছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে তৃণমূল দলের রাশ ধরেছেন তাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই চোখে সর্ষেফুল দেখছে বিজেপি নেতারা। হতাশাগ্রস্ত হয়ে এখন প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপরই চড়াও হচ্ছে গেরুয়া শিবির।