২ কিলোমিটার হেঁটে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে রাষ্ট্রপতি! দেশ ও দশের কল্যাণে দিলেন পুজো

0
11

দুই কিলোমিটার হেঁটে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে (Puri Jagannath Temple) পৌঁছলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu)। তিনি যে আমজনতার কাছের মানুষ তা বোঝালেন দ্রৌপদী। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকেও তিনি যে আর পাঁচ জন মানুষের মতোই সাধারণ সেই বার্তাই দিলেন রাষ্ট্রপতি। বৃহস্পতিবার তাঁর কনভয় (Convoy) মন্দিরের দুই কিলোমিটার আগেই থামিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। নিজে ওড়িশার বাসিন্দা। আর প্রত্যেক ওড়িশাবাসীর মতোই জগন্নাথ মন্দিরের প্রতি স্বভাবতই তাঁর বরাবরের টান। সেই টান থেকেই তিনি বৃহস্পতিবার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। দেশের রাষ্ট্রপতিকে এভাবে দেখে আপ্লুত জগন্নাথ মন্দিরের কর্তারা। বিস্মিত রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তারক্ষীরাও। এদিন চলার পথের দু’পাশে জমায়েত জনতার উদ্দেশে নমস্কার করার পাশাপাশি হাত মেলালেন খুদে স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গেও।

বর্তমানে দু’দিনের সফরে ওড়িশায় (Orissa) রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, খোদ দ্রৌপদী মুর্মুই তাঁদের মন্দিরের ৩ কিলোমিটার আগে কনভয় থামানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর, তারপর তিনি সাধারণ ভক্তদের মতোই দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে গিয়েছেন। হাঁটার পথে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সঙ্গীদের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি দিতেও শোনা যায়। প্রস্তুতি কম ছিল না। এদিকে প্রভু জগন্নাথকে পুজো নিবেদন করতে তাঁর যেন কোথাও কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি আসার কারণে পুরীর গ্র্যান্ড রোডে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাফিক প্রায় বন্ধ ছিল। প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা ছিল ব্যারিকেড ঘেরা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই রাস্তায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

এদিন জগন্নাথ মন্দিরে পৌঁছে তিনি নিয়ম মেনে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে পুজো দেন। পুজো শেষে পুরীর রাজ পরিবারের সঙ্গে রাজভবনে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। তারপর পূর্বপরিকল্পিত সূচি অনুযায়ী ভুবনেশ্বরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক, রাজ্যপাল গণেশী লাল সঙ্গে দেখা করেন। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, রেজিস্ট্রার বুকে প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, মন্দিরের পবিত্র গর্ভগৃহে দেবতাদের দর্শন করে খুব খুশি। দেশ-দশের কল্যাণের জন্য পুজো দিয়েছি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে প্রার্থনা করেছি।