বাগুইআটির দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য। থানার গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশির তরফে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়। এই জোড়া খুনের রহস্যের কিনারায় মুখ্যমন্ত্রী CID তদন্তের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সাফল্য পেল CID ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। শেষরক্ষা হল না। নৃশংসতা হত্যাকাণ্ডের পর সপ্তাহ দুয়েক গা ঢাকা দিয়ে থেকেও অবশেষে গ্রেফতার গ্রেফতার বাগুইআটি জোড়া খুন কাণ্ডের মাস্টার-মাইন্ড। আজ, শুক্রবার হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরী।

আরও পড়ুন:বাগুইআটিকাণ্ড: হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র
মূল অভিযুক্ত সতেন্দ্রর খোঁজে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছিল বিধাননগর পুলিশ ও CID. সেই সময়ই সতেন্দ্রর এক আত্মীয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনেদেন নজর পড়ে গোয়েন্দাদের। এটিএম থেকে মোটা টাকা তোলা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত সত্যেন্দ্রকে টাকা পাঠিয়েছে তার জামাইবাবু। আর সেই টাকা তুলেই সে ভিন রাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছে। যদিও মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিল না সত্যেন্দ্র। অন্য একটি নতুন নম্বর থেকে ফোন করছিল পরিচিতদের। তাদের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছিল। সেই নম্বরের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই পুলিশ সত্যেন্দ্রর কাছে পৌঁছে। এদিন পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করে, তখন সে টিকিট কাটার জন্য একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে বসে অপেক্ষা করছিল।

নিহত অতনুদের পাড়ার জামাই সত্যেন্দ্র চৌধুরী আদতে বিহারের বাসিন্দা। অতনু ও তার পিসতুতো ভাই অভিষেকের পূর্ব পরিচিত ছিল সতেন্দ্র। ফলে অপহরণ করতে বাধা পেতে হয়নি সতেন্দ্রকে। এরপর বাসন্তী হাইওয়ের উপর চলন্ত গাড়িতে খুন করা হয় দশম শ্রেণির দুই ছাত্রকে। খুনের ছক কষা হয়েছিল নিউটাউনের একটি হোটেলে। এখন কী কারণে খুন দুই ছাত্রকে? বাইক কেনার টাকা নিয়ে বিবাদ? নাকি খুনের পিছনে রয়েছে অন্য মোটিভ? ধৃতকে জেরা করেই তার উত্তর মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বাগুইআটি জোড়া খুনের তদন্তভার হাতে নিয়ে গতকাল, বৃহস্পতিবারইনকোমরবেঁধে মাঠে নেমে পড়ে CID হোমিসাইড শাখা। স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের অফিসাররা দ্রুত তদন্তের নিষ্পত্তি চাইছিলেন। ওইদিন বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে এক যুবককে আটক করে CID. ধৃত যুবকের নাম রবিউল মোল্লা। সে ভাঙড়ের পোলেরহাটের বাসিন্দা। এই ঘটনায় এর আগে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের জেরা করেই রবিউলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।
অন্যদিকে, জোড়াখুন কাণ্ডের মাস্টার-মাইন্ড সত্যেন্দ্র চৌধুরীকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল CID হোমিসাইড শাখা এবং বিধাননগর পুলিশ। তার গতিবিধি কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিল গোয়েন্দারা। সত্যেন্দ্র চৌধুরীর খোঁজ পেতে বিহারের মতিহারি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল CID. অন্যদিকে, দুই কিশোর অতনু-অভিষেককে যে গাড়িতে তুলে খুন করা হয় সেই গাড়িটিরও ফরেন্সিক হয়। আর এদিন সকাল সকাল সাফল্যের মুখ দেখে পুলিশ ও সিডি.






































































































































