অধিকারী প্রাইভেট লিমিটেডের নতুন কেলেঙ্কারি। এবার শ্মশান কেলেঙ্কারি (crematorium scandal) । শ্মশানের জন্য জমি আর সেই জমিতেই বেআইনি নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার কেলেঙ্কারি (Crores of rupees scandal)। যার কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভাই তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারী (Soumendu Adhikari)।
কাঁথি পুরসভার রাঙামাটি শ্মশান। এই শ্মশানকে ঘিরে বসতি। ফলে এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল, শ্মশানে ইলেকট্রিক চুল্লি করা হোক। শহরের হৃদকেন্দ্রে শ্মশান। তাই দূষণ নিয়ে সকলেই চিন্তিত। সে কথা মাথায় রেখেই কাঁথির বর্তমান চেয়ারম্যান সুবল কুমার মান্না শ্মশানের জমি পরিদর্শনে যান গত ১ জুন। এলাকার মানুষের মনোভাব কী, সেটাও পুর চেয়ারম্যান বুঝতে চাইছিলেন। আর ঘটনাস্থলে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ চেয়ারম্যান সুবলবাবুর। শ্মশানের জমির অধিকাংশ জায়গা জুড়েই তৈরি হয়েছে দোকান ঘর। প্রায় ১৪টি দোকান। দোকানের বর্তমান মালিকদের সঙ্গে কথা বলতেই আরও বিস্মিত হন চেয়ারম্যান। জানতে পারেন ওই জমিতে (কিশোরনগর মৌজা, জেএল-২৬৫, প্লট নম্বর-৬৫৭) ২০১৯-২০২০ সালে দোকান তৈরি করেছে খোদ পুরসভা! দোকান ঘর তৈরি করেছে সতীনাথ দাস অধিকারী নামে এক ঠিকাদার এবং এক একটি দোকান নগদ ৮-১০ লাখ বা তারও বেশি টাকায় বিক্রি হয়। সেই দোকানঘর যারা এখন ভাড়া নিয়েছেন তাঁরাই চেয়ারম্যানকে কাঁথি পুরসভার ‘রেন্ট রিসিট’ও দেখান। সুবলবাবুর সন্দেহ বাড়ে। অবাক হন, কীভাবে পুরসভার জমিতে এই কাণ্ড ঘটতে পারে!
এবার চেয়ারম্যান শ্মশানের জমির তথ্য তালাশে নামেন। পুর রেকর্ড ঘেঁটে তিনি দেখেন, শ্মশানের জমিতে দোকান তৈরির কোনও সিদ্ধান্তই পুরবোর্ডে হয়নি। সিদ্ধান্ত পাশের তথ্যও স্বাভাবিকভাবে নেই ৷ পুর তথ্যে দোকান তৈরির কোনও ‘প্রজেক্ট রিপোর্ট ‘ নেই, কিংবা নকশা অনুমোদনের কোনও তথ্য নেই। এমনকি, ঠিকাদার সতীনাথ দাস অধিকারীকে দোকান তৈরির বরাত দেওয়া হয় টেন্ডার ছাড়াই। কাঁথি পুরসভায় এ নিয়ে কোনও ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ বা ‘ফান্ড অ্যালোকেশন’-এর তথ্য মেলেনি। কেন পুরসভা দোকান তৈরিতে টাকা খরচ করল, তারও কোনও উত্তর নেই। দোকান বিক্রিও হয়েছে নগদে। স্বাভাবিকভাবে সেই টাকার হিসাবও নেই। পুর অ্যাকাউন্টে তা জমাও পড়েনি। দোকান তৈরির ক্ষেত্রে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো লোককে চড়া দামে নগদে বিক্রি করা হয়েছে। পুরসভা এসব ক্ষেত্রে প্রকাশ্য নিলামের পথেই হাঁটে। এক্ষেত্রে তা না করে বাজারদরের চাইতে অনেক কম দামে বিক্রি করায় পুরসভার বিশাল ক্ষতি হয়। এমনকি ‘রেন্ট এগ্রিমেন্ট’-এর রেকর্ডও পুরসভায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকাদার সতীনাথ দাস অধিকারী, ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ বেরা ও চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীর এই দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ ছিল। এবার চেয়ারম্যান তা নিজের চোখে তা দেখলেন। তিনি অবাক, এক্ষেত্রে কীভাবে সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে, জনগনের অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে, এবং বিশাল অর্থ লুঠ করেছে এই চক্র। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা ভুয়ো ওয়ার্ক অর্ডার, ভুয়ো চুক্তি, ভুয়ো রেন্ট এগ্রিমেন্ট তৈরি করেছে। এরপরেই চেয়ারম্যান এফআইআর করেন ঠিকাদার সতীনাথ দাস অধিকারী, পুর সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এঞ্জিনিয়ার দিলীপ বেরা ও তৎকালীন চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সতীনাথ ও দিলীপ গ্রেফতার হয়েছে। জেরা চলছে। পুরসভার আশা, খুব শীঘ্রই শ্মশান কেলেঙ্কারির আসল রহস্য উদ্ধার হবে। আর এর পিছনে নাটের গুরু কী সৌমেন্দু অধিকারী? তদন্ত চলছে। শীঘ্রই ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খুলছে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, কাঁথিতে শ্মশানের জন্য নির্দিষ্ট জমিতে ইলেকট্রনিক চুল্লি যখন বসাতে যাচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে সেই জমিতে দোকান হয়েছে। তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীর শ্মশানের জমি পর্যন্ত বেচে দিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের দাবি তুলছি আমরা। তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর আমলেই শ্মশানের জমি নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কেলেঙ্কারি হয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারিতেও অধিকারী পরিবারের নাম উঠে এসেছে। সৌমেন্দু অধিকারীর নামও এসেছে।
[2:40 pm, 06/07/2022] Jeena Banerjee: 


[1:44 pm, 07/07/2022] Jeena Banerjee:













































































































































