চিনের নয়া ফন্দি। অরুণাচল প্রদেশের (Anunachal Pradesh) ১৫টি জায়গার নাম নিজেদের ভাষায় পরিবর্তন করে সেগুলি চিনের অন্তর্ভুক্ত বলে তাদের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ কেন্দ্রের মোদি সরকার। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূলের (Tmc) বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendushekhar Ray), কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Karge)- সবাই বিষয়টি নিয়ে মোদি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, রহস্যময় নীরবতা পালন করছে মোদি সরকার। যে ভুলটা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু করেছিলেন, সেই ভুলই করছেন নরেন্দ্র মোদি। চিন ভারতের বন্ধু হতে পারে না। কারণ তারা সবসময় ভারতের উপর আগ্রাসনের চেষ্টা করে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, অরুণাচলের বিভিন্ন এলাকা দখল করে রেখেছে চিন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কথা বলার হিম্মত নেই কেন্দ্রীয় সরকারের।
কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, অরুণাচল প্রদেশের পনেরোটি জায়গার নাম পরিবর্তন করেছেন চিন (China)। এমনকী উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ডে ব্যবহার করে তারা দুটি গ্রাম তৈরি করেছে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার ‘বেজিং জনতা পার্টি’ চিনের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করছে না।

দু’দিন আগে চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানা যায়, জংনান প্রদেশের ১৫টি জায়গার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। জংনান হল চিনা ভাষায় অরুণাচলের নাম। যে ১৫টি জায়গার নাম বদল করা হয়েছে তার মধ্যে ৮টি হল জনবসতি, ৪টি পাহাড়, ২টি নদী এবং একটি গিরিখাত। সবগুলোরই নিজেদের মতো করে নাম দিয়েছে চিন৷ যে ১৫ টি জায়গার নাম চিন পরিবর্তন করে নিজেদের মানচিত্রে ঢুকিয়েছে সে জায়গাগুলোর মধ্যে আটটিতে জনবসতি রয়েছে। রয়েছে নদী-পাহাড়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনও হেলদোল নেই মোদি সরকারের। চার বছর আগে ২০১৭ সালেও চিন অরুণাচল প্রদেশের ৬টি জায়গার নাম বদল করে দিয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানকার কোনও জায়গার নাম পরিবর্তন করে নিলেই তা চিনের হয়ে যাবে না। কিন্তু কেন্দ্রের তরফ থেকে এই বিষয় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? চিনা সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করে পত্রালাপ হয়েছে কি না- সে কথা জানায়নি ভারতের বিদেশমন্ত্রক। আর তাদের এই নীরবতা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধী।
আরও পড়ুন:বন্ধ হোক খুনের কারখানা: তালিবানের চোখে চোখ রেখে কাবুলের রাস্তায় আন্দোলন মহিলাদের









































































































































