‘শুভেন্দু পরিবারের সম্পদ, আমি ছেলের বিরুদ্ধে যাবো কেন?’মুখ খুললেন শিশির অধিকারী

0
9

এবার তৃণমূল ছাড়ছেন সাংসদ শিশির অধিকারী (Sisir Adhikari)?

তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে তৃণমূল শিবির পরিকল্পিতভাবে ‘মিরজাফর’ বা ‘বেইমান’ বলছেন, বাড়ি চড়াও হওয়ার হুমকিও যেভাবে দিয়ে চলেছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ প্রবীণ রাজনীতিক তথা পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী।

সৌম্যেন্দু অধিকারীর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে
ইদানিং চর্চার শীর্ষে থাকাঅধিকারী পরিবারের কর্তা শিশির অধিকারী এক সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব পাবে। জবাব দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। আমি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলে দলে সকলে যোগ দিল। আর আমি এখন হলাম মিরজাফর! আমি হলাম বেইমান! বাহ্!’’
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁকে ‘মিরজাফর’ বলতে শুরু করেছিলেন। আর শুভেন্দু যোগ দেওয়ার পর তো ফিরহাদ একাধিক বার বলেছেন ‘‘অধিকারী পরিবারটাই মিরজাফর!’’

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শিশিরবাবু হেসেই বলছেন, ‘‘মিরজাফর তো মুসলমান বলে জানতাম! তবে ববি ( ফিরহাদ হাকিম) ভালো ছেলে। ও ভালো থাকুক। আমার পরিবারকে ববি গাল দিলে আমার কিছু যায়-আসে না।’’

শিশিরবাবু বলেছেন, ‘‘জেলা সভাপতি এখনও আছি কি না জানি না! কিছুই জানি না! না দিস সাইড, না দ্যাট সাইড। কংগ্রেসে বুড়ো লোকেরা থাকতে পারত। তৃণমূলে ৮০ বছরের বেশি লোককে তো রাখে না! তবে আমি এখনও নেত্রীর সঙ্গেই আছি। ফিরহাদ হাকিম, সৌগত রায় কাঁথিতে এসে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করে বক্তৃতা দিয়েছে। সৌগতবাবু এই শহরে দাঁড়িয়ে আমার আর আমার পরিবারের নামে যা বলেছেন, তা কেউ কোনওদিন বলেনি! জঘন্য ভাষায় আমার পরিবারকে আক্রমণ করা হয়েছে৷”

এ বিষয়টি কেন তিনি ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাচ্ছেন না? এই প্রশ্নের উত্তরে শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘আমার ফোন করার দরকার নেই। ওঁর কাছে কি আমার ফোন নম্বর নেই? উনি তো আমায় একটা ফোন করেননি! শুভেন্দু অনেক ভাবে অপমানিত হয়ে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সে আমাকে বলেনি। আমার ছোট ছেলে সৌম্যেন্দু এ বাড়িতে নেত্রীর সবচেয়ে বড় সমর্থক। কেউ নেত্রীর নামে দুটো কথা বললে টেবিলের উপর উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করত। পারলে চড়চাপড়ও লাগিয়ে দিত। ওকে যে ভাবে সরানো হল, সেটা কি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে? সৌমেন্দু মধ্যপ্রদেশের মহাকাল মন্দিরে গিয়েছিল। ওই মন্দিরে গেলে সকলকেই কপালে গেরুয়া সিঁদুরের টিপ পরতে হয়। ওকেও পরতে হয়েছিল। সেই ছবিটা দেখে ওরা ধরে নিল, সৌমেন্দু বিজেপি হয়ে গিয়েছে! তার পরেই ওকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রশাসকের পদ থেকে! এটা কি ন্যায়বিচার হল?’’
পুরসভা থেকে যে ভাবে সৌম্যেন্দুকে সরানো হয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে শিশিরবাবুর। বলেছেন, ‘‘কলকাতা হাইকোর্ট তো মামলাটা নিয়েছে। দেখা যাক ৪ জানুয়ারি শুনানিতে কী হয়!’’

এক সংবাদমাধ্যমে শিশিরবাবু বলেছেন, “ওঁরা কি কেউ নন্দীগ্রামের রাস্তা চিনতেন? চিনতেন না! নন্দীগ্রাম মানুষের আন্দোলন। কিন্তু তাতে এই অধিকারী পরিবারেরও একটা ভূমিকা ছিল। সেটা এখন সকলে ভুলে গেলেন?’’

বলিষ্ঠসুরেই কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী বলেছেন, ‘‘এরা চাইছিল আমাকে দিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কথা বলাতে। সেটা কি কখনও সম্ভব? আমি কেন ছেলের বিরুদ্ধে যাবো? শুভেন্দু আমার পরিবারের বড় সম্পদ! আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দল যা বলছে, তা ঠিক নয়। মমতা এখনও আমার নেত্রী। আমি তাঁর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলিনি। কিন্তু আমাদের পরিবারের অপমানের জবাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে।’’