মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা সভার মঞ্চ থেকে একটি কেলেঙ্কারি করে ছাড়লেন তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।
তিনি যে নন্দীগ্রামকে কত পুরনো দিন থেকে চেনেন, সেটা বোঝাতে একসময়ের সক্রিয় সংগঠক মধুসূদন ওরফে মধুর নাম তোলেন। মধুবাবু মাওবাদী অভিযোগে দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত।

মঞ্চে বক্তৃতা চলাকালীন পূর্ণেন্দু অবলীলায় বলে দেন,” আমি নারাণকে নিয়ে এসেছি। কই ও কোথায়?”
এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নমস্কার করেন।

ঘটনা হল, এই ব্যক্তি নারায়ণ ওরফে মধু নন।
সম্পূর্ণ অন্য লোককে সামনে রেখে ইতিহাস পড়ানো হল।
আসল মধুবাবু সেই সময় হলদিয়ার দুর্গাচকে নিজের এলাকায় গান শুনিয়ে নিজের মত করে দিনটি পালন করছিলেন।
প্রশ্ন হল এটা ভুল নাকি কেলেঙ্কারি?
” আমি নিয়ে এসেছি” বলার মধ্যে যে পরিচয়পর্ব থাকে, সেটা তো মিলছে না।
পূর্ণেন্দু বসু সভায় আরও বলেছেন,” সাংবাদিক বিতনু চট্টোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রাম বিষয়ক বইতে এই মধুর কথা আছে।”
ঘটনা হল, বিতনুর বইতে নারায়ণ বা মধুর কথা আছে ঠিকই। কিন্তু সেটা আসল নারায়ণ। ভুয়ো নারায়ণ নয়।
পূর্ণেন্দু অবশ্য পদবীতেও গোল পাকান। মধুসূদন দত্ত বলে ফেলেন। সম্ভবত মাইকেল মধুসূদন দত্তর সঙ্গে গুলায়েছেন। যাই হোক, তিনি বলেন,” নারায়ণ এখানে মধুদা বলে পরিচিত ছিল। সব আন্দোলনে যুক্ত ছিল। সবার হয়ত মনে নেই। বিতনুর বইতে আছে।”
এদিকে ” বিশ্ব বাংলা সংবাদে” এই সভার সম্প্রচার দেখে আসল মধুদার চোখ কপালে।
তিনি বলেন,” আজব কথা! একটা অন্য লোককে আমি বলে চালিয়ে দিল !!”
‘মধুদা’ কদিন আগেই যখন জামিনে বেরোন, তখন প্রেসিডেন্সি জেলের সামনে থেকে লাইভ করেছিল এখন বিশ্ব বাংলা সংবাদ। তিনি বিজেপির ঘোরতর বিরোধী। গান লেখেন। গান করেন। কমাস আগেই তাঁর মা মারা গিয়েছেন। বুধবার সকালেও তিনি সেই ১০ নভেম্বরের ভয়ঙ্কর স্মৃতিচারণ করেছেন। সেই সময় ঘটনাস্থলে কে কে ছিলেন না, সেই তালিকাও দীর্ঘ।
এখন ভুয়ো মধুদাকে দেখিয়ে মঞ্চে রাজনীতি হল।
কিন্তু বন্দি মধুদা যখন লড়ছেন, পরিবার বিধ্বস্ত, তখন এই বক্তাদের দেখা যায়নি। তখন বন্দিমুক্তি কমিটি বা বন্দিদশায় পরিচিতরাই মধুদার সঙ্গে থেকেছেন। প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের সঙ্গেও তখন পরিচয় মধুদার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ক ভালো। এই পরিবারের পাশে সাধ্যমত থেকেছেন কুণাল। এবং সম্প্রতি কুণালের অনুরোধে মধুবাবুর ছেলেকে একটি চাকরিও করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যেহেতু মধুবাবুরা হলদিয়া এলাকার বাসিন্দা।
এখন মঞ্চে ভুয়ো মধুদাকে দেখে বিস্মিত কুণালও। বস্তুত মধুবাবুই ফোনে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কুণাল বলেন,” মধুদা কট্টর বিজেপিবিরোধী। সেটা আলাদা কথা। কিন্তু এইভাবে একটা আস্ত মানুষকে পাল্টে রাজনীতি করা হল কেন, নিশ্চয়ই খোঁজ নেব।”
যাই হোক, প্রশ্ন হল, এটা অজান্তে ভুল না ইচ্ছাকৃত?
পূর্ণেন্দুবাবু ” আমি ওকে এনেছি” বললেন কী করে? যাকে দেখানো হল, সে কে? যদি তার নামও নারায়ণ হয়, সে তো ঐ আসল নারায়ণ নয়। তাহলে তাকে দাঁড় করিয়ে এই সস্তা নাটক করা হল কেন?





























































































































