চেন কিলারের মৃত্যুদণ্ড: আদালতে কেঁদে আকুল ‘দুই মা’

0
13

ফাঁসির সাজা হয়েছে চেন কিলার কামারুজ্জামানের। আদালত যখন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিচ্ছে তখন সেখানে উপস্থিত দুই মা। একজন কালনার সিংয়েরকোনের নির্যাতিতার মা। অন্যজন কামারুজ্জামানের তিন ছেলে-মেয়ের মা। মৃত্যুদণ্ড আদেশ শোনান কালনা অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা বিচারক। সাজা শুনে কেঁদে ফেলেন দুজনেই।

নির্যাতিতা কিশোরীর মা বলেন, “ওর ফাঁসি চেয়েছিলাম। তাই হয়েছে মেয়ের মৃত্যুর পর এই প্রথম একটু শান্তিতে ঘুমাতে ঘুমোতে পারব”।
আর কামারুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা বিবির অভিযোগ, “আমার স্বামী নির্দোষ। রাস্তা থেকে ধরে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছে পুলিশ”। কামারুজ্জামানের ছিলেন বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্য। গত এক বছর ধরে কাগজ কুড়িয়ে, বিড়ি বেঁধে কোনো রকম তিন ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধা মায়ের মুখে অন্য জোগাচ্ছেন জাহানারা। বিভিন্ন জটিলতায় ছেলে- মেয়ে বা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়নি। তাই সরকারি অনুদানের টাকা পান না। লকডাউনে শুধু পেয়েছেন বিনামূল্যে রেশন। এই রায়ের বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। যদিও কামারুজ্জামানের আইনজীবী জানিয়েছেন, যে ঘটনায় তাঁর মক্কেলকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই অভিযোগে অনেক ফাঁক রয়েছে। এদিকে গত এক বছর ধরে বাড়ি ঢুকতে পারেননি মৃত কিশোরীর মাও। স্বামী মারা যাওয়ার পরে ছোট মেয়েকে নিয়ে একাই থাকতেন ওই বাড়িতে। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছিলেন। দশম শ্রেণীতে পড়ত নির্যাতিতা। কিন্তু নৃশংসভাবে কন্যার হত্যা হওয়ার পরে পুলিশ বাড়ি সিল করে দেয়। তারপরে থেকে কখনও বড় মেয়ে শ্বশুরবাড়ি, কখনও নিজের বাপের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে তাঁর। এদিন সাজা ঘোষণার পরে তাঁর বাড়ির খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান আইনজীবী। সে বিষয়ে মহিলার সঙ্গে কথা বলেন বিচারক। কিন্তু বাড়িতে পা দিয়েই শুধু তাঁর মেয়ের মুখটাই মনে পড়বে। একা থাকতে পারবেন কি না জানেন না। মেয়ের খুনি শাস্তি পেল, কিন্তু মেয়েটা ফিরে আসবে না। চোখের জল বাঁধ মানছে না প্রৌঢ়ার।

৩ সন্তান আর বৃদ্ধা মা-সহ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন এই ভেবে কেঁদে আকুল হচ্ছেন জাহানারাও।