সোমবার উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দিন নির্বিঘ্নে কাটলেও, বন দফতরের ঘুম কেড়েছে হাতির দল।কারণ, রবিবার ঝাড়গ্রামে ঢুকে পড়েছে ২৬টি বুনো হাতির দল! শনিবার ঝাড়গ্রাম বনবিভাগে ছিল মোট পাঁচটি হাতি। রবিবার সেই হাতির সংখ্যা বেড়ে হয় ৩১টি। জেলা বন দফতরের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যে ২৬টি হাতি ঢুকেছে তার মধ্যে মানিকপাড়ায় রয়েছে ২০টি এবং বেলপাহাড়ির চৌকিশোলে রয়েছে ছ’টি হাতি। সোমবার শুরু হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। এই ক’দিন পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত সুনিশ্চিত করা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে বন দফতর।জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাতির দল। মূলত, সেখানকার বড়জোড়া ব্লকের পাবয়া, ডাকাইসিনি, কালপাইনি, খাঁড়ারি ও ফুলবেড়িয়া-সহ জঙ্গল সংলগ্ন একাধিক গ্রামেই ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে ৬৮টি হাতি। যার ভয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেছেন, হাতি–উপদ্রুত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে পরীক্ষার দিনগুলিতে। হাতি করিডর এলাকায় ড্রপগেট থাকবে। সেই সঙ্গে জঙ্গল রাস্তায় পরীক্ষার্থীদের জন্য বন দফতরের ঐরাবত গাড়ি এবং দফতরের অফিসার এবং কর্মীরা থাকবেন, যাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় কোনও সমস্যায় পড়তে না হয় পরীক্ষার্থীদের।
এদিন পরীক্ষার শুরুর দিনেই সাত সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে বুনো হাতির পাল চলে আসায় আতঙ্ক ছড়ায় আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা এলাকায় । সোমবার ১৬টি হাতির একটি দল আলিপুরদুয়ারের হাসিমারার মালঙ্গি চা বাগানের হাসিমারা হাইস্কুল ও হিন্দি হাইস্কুলের একদম কাছে দৌরাত্ম্য শুরু করে। এর ফলে আতঙ্ক ছড়ায় ওই এলাকায়। কারণ, ওই বিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে হাতির উপস্থিতির খবর ছড়াতেই আতঙ্ক গ্রাস করে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে।ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই হাসিমারা হাইস্কুলে ছুটে আসেন পুলিশ আধিকারিক ও বনকর্তারা। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে হাতির পাল কে জঙ্গলে ফেরানোর কাজ শুরু হয়। তবে হাতির দলের শাবক থাকায় বেশ কিছু শাবক থাকায় মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি তে ঘাবড়ে যায় তারা।
প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ ও বনকর্মীরা হাতির দলটিকে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে পার করে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ফেরাতে সমর্থ হন। স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে সকলেই।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,সোমবার ভোর রাতে নতুন হাসিমারার আট নম্বর মহল্লা হয়ে হাতির দলটি ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে পেরিয়ে মালঙ্গি চা বাগানের হাসিমারা হাইস্কুলের পাশে চলে আসে। এদিকে দিনের আলো ফুটে যাওয়ায় জঙ্গলে না গিয়ে, ওই এলাকাতেই ঘুরতে থাকে।
আলিপুরদুয়ার জেলা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ভাস্কর মজুমদার বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ঠিক পাশে হাতির পালের অবস্থানের খবর মেলায় প্রাথমিক ভাবে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু বন দফতর ও পুলিশের তৎপরতায় সব বিপত্তি এড়িয়ে সঠিক সময়ে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের বনকর্মীরা পরিস্থিতি সামলাতে ময়দানে নেমে পড়ে । হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পুলিশ ও বন দফতরের যৌথ অভিযানেই চলছে জঙ্গলপথে নজরদারি। কাঁধে বন্দুক নিয়েই জঙ্গলে টহল দিচ্ছে বন দফতরের কর্মীরা। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে পারেন, তার জন্যই এত ব্যবস্থা।তবে শুধুই নজরদারি নয়। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছে বনদফতর।
–
–
–
–
–


























































































































