ঠিক যেন বিরিঞ্চিবাবার গল্প। এখানে, সুকিয়া স্ট্রিট মোড়ের কাছে মা শ্যামাসুন্দরীর মন্দির। স্থানীয় বাসিন্দাসহ বহু মানুষের বিক্ষোভে পয়লা জানুয়ারি দিনভর হইচই। শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মন্দিরের ভেতরের পুজো চালু থাকলেও বহিরাগত দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ আপাতত বন্ধ। পুলিশের ওসির ডাকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠক হবে সোমবার। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
সুকিয়া স্ট্রিট মোড়ের কাছে হরিনাথ দে রোডে শ্যামাসুন্দরী মন্দির। কর্তৃপক্ষ শিয়ালদহ থেকে এসে কয়েকবছর এখানে মন্দির বসিয়েছেন। কিন্তু গত বছরখানেকের বেশি সময় ধরে এক বিশেষ প্রচার তীব্রতর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের পক্ষ থেকে রটনা হয় মা রাতে হাঁটেন, নাচেন, কথা বলেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুজোর নামে বিপুল টাকা নেওয়া হয়। এখানে জমা পড়া ভোগের চাল রাতে গাড়িতে পাচার করে বিক্রি করা হয়। এছাড়াও ওই লোক সমাবেশে সরু রাস্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস ওঠে। ছোটরা বাইরে বেরোতে পারে না। এলাকায় রাস্তাঘাট নোংরা হয়। মন্দিরের লোকেরা এসব সমাধান না করে আয় বাড়ানোর প্রচারে মরিয়া। অভিযোগ, এদের কোনো আইনি ট্রাস্ট নেই। মা কালীর রাতে চলাফেরার প্রচার করে মানুষের বিশ্বাস ভাঙিয়ে লোকবাড়ানোই এদের কাজ। পুলিশ, পুরসভা সতর্ক করেও লাভ হয়নি। নিয়ে এলাকায় বিপুল ক্ষোভ ছিল।
এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে আবার ক্ষোভ জানালে পাড়ায় যান পুরপিতা অয়ন চক্রবর্তী ও প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। চলে আসেন নারকেলডাঙা থানার ওসি ও বিরাট বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মন্দিরের দুএকজন পাল্টা তর্ক করলে পরিস্থিতি জটিল হয়। দফায় দফায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন কুণাল, অয়ন। মন্দিরকে বলা হয়, পুজো চলুক। কিন্তু আপত্তিকর ও অসুবিধার কাজ বন্ধ করতে হবে। ওসি এনিয়ে থানায় বৈঠক ডাকেন। বৃহস্পতিবার বৈঠক হওয়ার কথা।
এখানে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হচ্ছে। এলাকার মা-বোনেদের বলা হচ্ছে যে এই গয়নাটা মায়ের খুব পছন্দ।এমনকী, মা নাকি রাতের বেলায় হাঁটাচলা করেন।কুণালের প্রশ্ন, দক্ষিণেশ্বর-কালীঘাটের মা হাঁটলেন না । অথচ শ্যামাসুন্দরী মা রাতের বেলায় হাঁটছেন। এইসব প্রচার করে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। আজকের ইউটিউবের যুগে এইসব রটানো হয়েছে। প্রচুর মানুষ প্রত্যেকদিন আসছেন। ভোগের পাতা থেকে শুরু করে মানুষের ভিড়ে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।এরা বিভিন্ন সোর্সে মাঝে মাঝে নানান সেলিব্রেটিকে এনে চমক দেন।তার স্পষ্ট কথা, মায়ের পুজো হবে, কিন্তু যেভাবে বুজরুকি করে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হচ্ছে, সেই কারণে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা মায়ের ভক্ত। মায়ের পুজো নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু অযথা বুজরুকি ছড়িয়ে জনজীবন ব্যাহত করবেন না।
–
–
–
–
–
–
–
–


























































































































