আরজি কর-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে এবার সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনে বড় বদলের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতিগুলিকে রাজনীতি মুক্ত করার ডাক দিলেন তিনি।সোমবার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে বলেন, এখন থেকে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হবেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ নিজেই। সঙ্গে সমিতিতে একজন নার্সকে রাখবেন, একজন পুলিশকে রাখবেন, স্থানীয় থানার আইসিকে রাখবেন। একজন সিনিয়র ডাক্তার, একজন জুনিয়র ডাক্তার আর স্থানীয় বিধায়ককে রাখবেন। আর কাউকে সমিতিতে রাখার দরকার নেই। যারা সরাসরি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত তারাই থাকুক।
প্রসঙ্গত, গত ৯ অগাস্ট ডাক্তারি পড়ুয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর থেকে একাধিক চিকিৎসক মুখ খুলেছেন। হাসপাতালগুলিতে কার্যত পেশিশক্তির আস্ফালন চলে বলে অভিযোগ তুলেছেন। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে দুর্নীতি চক্র চলার জন্য পূর্বতন বাম সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আজ যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা ৭০০ ডিপার্টমেন্টে ঘুঘুর বাসা ঢুকিয়ে রেখেছিল। সেই ঘুঘুর বাসা আমরা ভাঙতে পারিনি। কারণ, আপনাদের বামফ্রন্টের লোক বসে আছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারে আসার সময় বদলা নয়, বদলের ডাক দিয়েছিলাম। আর সেই কারণে কারও চাকরিতে হাত দিইনি। কিন্তু কেউ যেন এই বিষয়গুলোকে আমার দুর্বলতা হিসাবে না ধরে নেন। তিনি বলেন, বাম আমলে মেডিক্যাল কোটায় চাকরি হতো। আলিমুদ্দিন থেকে চাকরিপ্রাপকদের তালিকা ঠিক হয়ে আসত। তিনি এসে এই প্রবণতা থামিয়েছেন। স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে একটি বৈঠক ডাকার জন্য স্বাস্থ্যসচিবকে এদিন নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বৃহস্পতিবার বেলা একটা নাগাদ ওই বৈঠক হবে। রাজ্যের সব হাসপাতালের অধ্যক্ষ বৈঠকে থাকবেন। সিনিয়র ডাক্তার এবং জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে ডাকা হবে। জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।







































































































































