বাম-কংগ্রেস চায়নি বলেই জোট হয়নি। জোট করার জন্য আইএসএফ সদর্থক ছিল। কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম-কংগ্রেস। এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বামেরা। তাদেরকেই জোট না হওয়ার দায় নিতে হবে। আর কংগ্রেস শুরু থেকেই ভিলেন। বৃহস্পতিবার এমনটাই দাবি করলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি।
এখানেই থেমে থাকেননি নওশাদ। বামেদেরকে সরাসরি শর্ত ছুঁড়ে নওশাদ বলেন, সিপিএম শ্রীরামপুর থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করলে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বিবেচনা করবে আইএসএফ। প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে হাবিব শেখকে প্রার্থী করছে আইএসএফ।
নওশাদের কথায়, “প্রয়োজনে আমরা মুর্শিদাবাদটা বিবেচনার জায়গায় রাখছি, যদি সিপিএম শ্রীরামপুরের প্রার্থী তুলে নেয়। সবটাই যদি আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে তো হবে না। তাহলে বলুক, বাকি আট কেন্দ্রেও আমরা প্রার্থী তুলে নিই।”
নওশাদের এমন বক্তব্যের পর সিপিএম রাজ্য সম্পাদক তথা মুর্শিদাবাদের বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, “আইএসএফ অন্যের হাতে সাজানো তামাক খাচ্ছে। তাতে রাজনীতি বেশি দূর করা যায় না। আমরা এখনও অনেক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করিনি। কারণ, কংগ্রেস এবং আইএসএফের সঙ্গে আলোচনা করেই বাকিটা করতে চেয়েছি। এটা না তুললে ওটা তুলব না বলা মানে বার্গেনিং পলিটিক্স, সেটা সঠিক নয়।”
সমঝোতার প্রক্রিয়া চলাকালীনই রাজ্যের ৮ লোকসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল আইএসএফ। তার মধ্যে সিপিএম বা কংগ্রেসের প্রার্থী আছে, এমন কয়েকটি আসনও ছিল। সেই তালিকায় অন্যতম শ্রীরামপুর কেন্দ্র। সেখানে আইএসএফের আগেই সিপিএম প্রার্থী হিসাবে ছাত্র এবং যুব আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ দীপ্সিতা ধরের নাম ঘোষণা করেছিল। তিনি ইতিমধ্যেই প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন। এর পরে গত ২১ মার্চ আইএসএফ শ্রীরামপুরে প্রার্থী হিসাবে শাহরিয়ার মল্লিকের (বাপি) নাম ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে নওশাদের দলের সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
এখানেই থেমে থাকেননি নওশাদ সিদ্দিকি, তিনি জানিয়েছেন যাদবপুর সহ আরও একাধিক আসনেও খুব শ্রীঘ্রই আইএসএফ প্রার্থী ঘোষণা করবে। নওশাদের কথায়, “বাম-কংগ্রেস চায়নি আইএসএফের সঙ্গে জোট হোক। কংগ্রেস তো শুরু থেকেই চাইছে না। বামের কিছুটা মনোভাব থাকলেও তারাও চাইছে না। যদি তারা চাইতো তাহলে আইএসএফকে সন্মানজনক জায়গায় রেখে জোট করতো। জোট নিয়ে আমাদের দিক থেকে স্বার্থত্যাগ করতে করতে আসন সাতে এসে দাঁড়িয়েছে। আশা করব, বামেদের দিক থেকে একটু ওপরে উঠুক।বারাসত-বসিরহাট-বনগাঁ-দমদম-বারাকপুর এই পাঁচটি আসনের মধ্যে দু’টি চেয়েছি আমরা।” নওশাদ সিদ্দিকি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১৫ থেকে ২৭টি আসনে লড়াই করতে পারে আইএসএফ।







































































































































