মুম্বইয়ে আটক পাকিস্তানগামী চিনা জাহাজে পারমাণবিক পণ্য উদ্ধার! দাবি নস্যাৎ পাক সরকারের

0
9

ভারতীয় গোয়েন্দারা শনিবার দাবি করেছিলেন, মুম্বাইয়ের নব সেবা বন্দরে আটক জাহাজে পারমাণবিক পণ্য উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি পারমাণবিক প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণায় কাজে লাগানো হতে পারে। সেই দাবির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক থেকে পাল্টা দাবি করা হল, আটক জাহাজটিতে বাণিজ্যিক পণ্যই রয়েছে। কোনও পারমাণবিক পণ্য নয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জানুয়ারি। মাল্টার পতাকা লাগানো ‘সিএমএ সিজিএম অ্যাটিলা’ নামে চিনের একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করে মুম্বইয়ে শুল্ক দফতর। পাকিস্তানের করাচিতে যাচ্ছিল সেটি। জাহাজটিকে আটকানোর পর থেকেই জাহাজের ওই পণ্য খতিয়ে দেখার কাজ চলছিল। শনিবার ডিআরডিও-র একটি বিশেষজ্ঞ দল আসে ওই পণ্য পরীক্ষা করতে। ওই বিশেষজ্ঞ দলটি জানিয়েছে, জাহাজে করে ‘কম্পিউটার নিউমেরিক্যাল কন্ট্রোল’ মেশিন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই যন্ত্র পারমাণবিক প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়।তবে ভারতের সেই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। তারা এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, করাচির এক সংস্থায় লেদ নিয়ে যাচ্ছিল জাহাজটি। এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয়। রফতানি সংক্রান্ত বিষয়। পাকিস্তানের গাড়ি শিল্পের জন্য যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হচ্ছিল। শুধু তাই-ই নয়, পাকিস্তান এটাও দাবি করেছে যে, যে পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছিল ওই জাহাজে, তার সঠিক নথিপত্রও রয়েছে।

যদিও ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, আটক জাহাজের পণ্যের নথিপত্রও ঠিক নেই।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যে সিএনসি যন্ত্রগুলি ওই জাহাজে পাওয়া গিয়েছে, এই ধরনের যন্ত্র তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করেছিল উত্তর কোরিয়া। জাহাজটি সাংবাই জেএক্সই গ্লোবাল লজিস্টিক্স নামে একটি সংস্থার। পণ্য পাঠানো হচ্ছিল পাকিস্তান উইংস প্রাইভেট লিমিটেড নামে সিয়ালকোটের একটি সংস্থায়। তদন্তে গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, জাহাজটি তাইউয়ান মাইনিং ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট নামে একটি সংস্থার। পাকিস্তানের কসমস ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি সংস্থায় ওই পণ্য পাঠানো হচ্ছিল।
এই প্রথম নয়, এর আগেও চিন থেকে পাকিস্তানে পাঠানো সেনাসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ভারতের জলসীমায়। ঘটনাচক্রে, সেই সময় থেকেই কসমস ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাটি নজরে ছিল গোয়েন্দাদের।