আন্দোলন করলেই জরিমানা: JNU পড়ুয়াদের প্রতিবাদী কণ্ঠ থামাতে জারি নির্দেশিকা

0
9

পড়ুয়াদের প্রতিবাদের কণ্ঠ থামাতে এবার মাঠে নামল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিবাদের অঙ্গ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রতিবাদ, অনশন, ধরনা সবকিছুই জরিমানার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। পড়ুয়ারা কোনওরকম প্রতিবাদ বা ধর্নায় অংশগ্রহণ করলেই তাদের আর্থিক জরিমানা করা হবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করলে শিক্ষার্থীদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দেয় তাহলে তার শাস্তি হবে ১০ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই নিয়মগুলি সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী এমনকি পার্ট টাইম কোর্সের জন্য আসা পড়ুয়াদের জন্যও প্রযোজ্য। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একাডেমিক বা প্রশাসনিক ভবনের ১০০ মিটারের মধ্যে ধরনা, অনশন-ধর্মঘট বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবাদের জন্য এখন থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে পড়ুয়াদের। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাহী পরিষদ ২৪ নভেম্বর “শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধি” সম্বলিত একটি চিফ প্রক্টর অফিস ম্যানুয়াল অনুমোদন করার পরে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সেখানে ২৮ টি অভিব্যক্তিকে ‘মিসকনডাক্ট’ বা অভব্য আচরণের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তালিকায় রাখাই নয়, বিভিন্ন রকমের প্রতিবাদের অভিব্যক্তির জন্য বিভিন্ন রকমের জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

এমনকি পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে “নবাগতদের স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠান, বিদায় বা ডিজে ইভেন্টের মতো ইভেন্টগুলি আয়োজন করার” জন্য শাস্তি স্বরূপ পড়ুয়াদের ৬০০০ টাকা জরিমানা করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোনও পড়ুয়া যদি লাগাতার পাঁচবার এই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় তাহলে তাকে সারা জীবনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের শাসকের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছাত্র-পরিসরে আন্দোলন-বিক্ষোভের একাধিক ঘটনার পূর্বে সাক্ষী থেকেছে জেএনইউ। ভারতের অন্যতম সেরা এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের কেন্দ্রের শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধীতাও নতুন কিছু নয়। যদিও বর্তমানে সেই ছবিতে বদল আনতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই সিদ্ধান্তে জেএনইউ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে পড়ুয়াদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, সার্কুলার নয় ফতোয়া জারি হয়েছে। যাতে পড়ুয়াদের মুক্ত চিন্তার পরিসর সঙ্কুচিত করে দেওয়া যায়।