১০০ দিনের কাজের বকেয়া মামলায় কেন্দ্রের হলফনামা তলব হাইকোর্টের

0
12

কেন্দ্রের সঙ্গে লড়াই করা বাংলার লক্ষ্য নয়। রাজ্য সরকারের এক মাত্র উদ্দেশ্য, বঞ্চিতদের ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা পাইয়ে দেওয়া। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মামলায় ভুল স্বীকার রাজ্যের, কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন।১০০ দিনের কাজের বকেয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে এমনই জানাল রাজ্য। এরই পাশাপাশি রাজ্যের প্রশ্ন, কেন্দ্র এ ব্যাপারে এত দিন কী করছিল? সেখানে গত এক বছর ধরে কেন পড়েছিল রাজ্যের রিপোর্ট?

কেন্দ্রের এএসজি বলেন,কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট বলছে, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ৫৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনও অডিট রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। আগামী সোমবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি। ওই দিনই কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে হলফনামা দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

এই বিষয়ে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এর মধ্যে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।পাওনার দাবিতে অন্য মামলাটি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজদুর সমিতি। তবে দু’টি জনস্বার্থ মামলার বিষয় ছিল ভিন্ন। শুভেন্দু জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে। সোমবার দু’টি মামলাই শুনানির জন্য ওঠে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে।

কেন্দ্র অনিয়মের প্রসঙ্গ তোলায় রাজ্যের আইনজীবী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর কথায়, ‘‘এ নিয়ে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চায় না রাজ্য। এটি একটি জনস্বার্থ মামলা। আমরা চাই রাজ্যের আসল উপভোক্তারা যেন প্রকল্পের সুবিধা পান। রাজ্য কখনও ভুল করে না এটা আমি বলব না। কিছু ভুল হতে পারে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রেই হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, রাজ্য যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, তার কী হল?’’

১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকার দাবিতে এই অক্টোবরের শুরুতেই দিল্লি গিয়েছিল রাজ্যের তৃণমূল। দিল্লিতেই দু’দিনের ধর্না কর্মসূচি পালন করে তারা। পাল্টা জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ১০০ দিনের কাজে অনেক অনিয়ম এবং দুর্নীতি হয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্যের কাছে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট বা কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট চাওয়া হলেও তা তারা জমা দেয়নি। তাই টাকা বন্ধ করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টেও সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে।