শহিদ ছেলের মরণোত্তর সম্মান এল ক্যুরিয়ারে, ফেরাল ক্ষুব্ধ পরিবার

0
12

ভোট প্রচারে সেনাবাহিনীর আবেগ নিয়ে রাজনীতির খেলা করে বিজেপি সরকার, অথচ বাস্তবে শহিদ সেনার প্রতি মোদি সরকারের সম্মান কতখানি তার জ্বলন্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে এলো। ২০১৭ সালে কাশ্মীরে শহিদ সেনার মরণোত্তর সম্মান ক্যুরিয়ারে করে পরিবারের কাছে পাঠাল মোদি সরকার। মোদি সরকারের এহেন পদক্ষেপে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শহিদের বাবা-মা ফিরিয়ে দিলেন সেই সম্মান।

অসমসাহসিকতার জন্য সরকারের তরফ থেকে যে সকল সম্মান দেওয়া হয় তার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান হল শৌর্য চক্র (Shaurya Chakra)। ২০১৭ সালে কাশ্মীরে পোস্টেড থাকাকালীন শহিদ গুজরাটের বাসিন্দা ল‌্যান্স নায়েক গোপাল সিং মরণোত্তর এই সম্মান পেয়েছেন। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার সময়ও সাহসিকতা ও কৃতিত্বের জন‌্য বিশিষ্ট সেনা মেডেলে সম্মানিত হয়েছিলেন এই গোপাল সিং। তাঁর মৃত্যুর পর গত সোমবার শহিদ গোপাল সিংয়ের বাবা মুকিম সিং ভাদোরিয়ার বাপুনগরের বাড়িতে এসে পৌঁছায় ছেলের শৌর্য চক্র পদকটি। যদিও তা পাঠানো হয় ক্যুরিয়ারে। শহিদ সেনা জওয়ানের সম্মানজনক এই পুরষ্কার ক্যুরিয়ারে করে পাঠানোয় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয় তাঁর পরিবার।

এরপরই ওই শহিদের পিতা এই পদক নিতে অস্বীকার করেন ও ফিরিয়ে দেন। এবং গোটা বিষয়টিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। মুকিম সিং জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে আরজি জানান, স্বাধীনতা দিবস কিংবা সাধারণতন্ত্র দিবসে তাঁর হাতে যেন পদকটি তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর সেই অনুরোধ রাখা হয়নি বলে অভিযোগ সন্তানহারা পিতার। বিসয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। উল্লেখ্য, এই পদক শহিদের বাবা-মার হাতে যাবে নাকি তাঁর স্ত্রীর কাছে যাবে তাই নিয়ে মামলা চলছিল আদালতে যদিও শেষে আদালত নির্দেশ দেয় এই পদক শহিদের বাবা মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সরকার যেভাবে ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে শহিদের পরিবারকে পদক পাঠাল তা অপমানজনক বলে মনে করছে সব মহল।