তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর টুইট রাজ্যপালের, অভিযোগ বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস

0
21

দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের(Dilip Ghosh) অপমানজনক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের(Jagdeep Dhankar) কাছে ডেপুটেশন দেন তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সন্ধ্যায় টুইট করলেন বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজভবনের অন্দরে তৃণমূলের(TMC) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1545000876406112256?t=RdDV_mnf22_1CE_h9pbIZQ&s=08

বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানাতে যে ৮ সদস্যের তৃণমূল প্রতিনিধিদল এদিন রাজভবনে এসেছিলেন সেখানে ছিলেন, ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ, তাপস রায়, শশী পাঁজা, সাজদা আহমেদ, মালা রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁরা রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশপাশি ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা। এরপরই সাক্ষাতের ভিডিও প্রকাশ্যে এনে এদিন টুইট করেন ধনকড়। যেখানে রাজ্যপাল দাবি লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে করা অবমাননকর মন্তব্যের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন৷ আবার ওই পোস্টেই রাজ্যপাল জানিয়েছেন, পাল্টা তৃণমূল নেতাদের কাছেই তিনি রাজ্যে সাংবিধানিক সীমালঙ্ঘন, মানবাধিকার হরণ এবং জনস্বার্থে সমন্বয় রেখে কাজ করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷

উল্লেখ্য, রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে প্রায় ঘন্টা দেড়েকের বৈঠকের পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেখানে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “আমরা ডেপুটেশন দিয়েছে রাজ্যপালকে। আমরা মর্মাহত। বিজেপির এক সাংসদ একজন মুখ্যমন্ত্রী ও মহিলাকে যেভাবে অপমান করলেন সেটা ভাবেই যায় না। তাঁর পরিবারের প্রতি অপমানকর ইঙ্গিত করেছেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যপালের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে কঠিন সাজা দাবি করেছি। তাঁর আরও সংযোজন, “বিগত দিনে মা দুর্গা নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন এই দিলীপ ঘোষ। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করছি। কড়া শাস্তি দাবি করেছি। উনি আশ্বস্ত করেছেন।”

পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “রাজ্যপাল পদটি সাংবিধানিক পদ। উনি বাংলার রাজ্যপাল। কিন্তু উনি বিজেপির পক্ষে কাজ করছেন। এখন বল রাজ্যপালের কোর্টে। উনি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করছেন। উনি এমন করলে প্রমাণিত হবে ব-কলমে বিজেপির লোক। বৈঠকের রাজ্যপাল আর টুইটের রাজ্যপালের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বাবা-মা টেনে কথা বলছেন। উনি কিছু করতে পারছেন না। কারণ, দিলীপ ঘোষ বিজেপি নেতা বলে। আগের রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি তো এমন ছিলেন না। আগের রাজ্যপালও বিজেপির লোক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে তো আমাদের কোনও সংঘাত ছিল না কিন্তু এই রাজ্যপাল কী করছেন সেটা গোটা বাংলা দেখছে।”

এরপরই কুণাল বলেন, “আমরা বারেবারে দেখেছি বিজেপির কথার প্রতিফল ঘটছে রাজ্যপালের কণ্ঠে। আমরা সাংবিধানিক পদে আস্থা রাখি। দেশের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সম্পর্কে এমন আপত্তিকর মন্তব্য ভাবাই যায় না। দিলীপ ঘোষ কোথায় রাজনীতিকে নামাচ্ছেন। রাজ্যপাল শুধু বিজেপির নয়। তাঁর ভূমিকা দেখবো। কথায় কথায় টুইট করে। তাঁর এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে রাজ্যপাল পদের গরিমা থাকে।”