রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে(Mamata Banerjee) উদ্দেশ্য করে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের(Dilip Ghosh) অপমানজনক মন্তব্যে গোটা রাজ্য যখন উত্তাল, ঠিক সেই সময়ে এই সংক্রান্ত বিষয়ে শীর্ষ আদালতের(Supreme Court) অতীতের এক পর্যবেক্ষণ ভাইরাল হোল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে আদালতের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন সাংবিধানিক কর্মকর্তাকে অপমান করতে পারেন না কেউ। নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ নন, তার জন্য অপমান জনক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে না মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে।

২০১৮ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক ওম প্রকাশ শর্মা ও কাউন্সিলর গুঞ্জন গুপ্তা। তাঁর প্রেক্ষিতে ওই নেতাদের রীতিমতো ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের সেই পর্যবেক্ষণ এবার ভাইরাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রকাশ্যে এসেছে, আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই বিজেপি নেতাদের ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম বিচারপতি মদন বি লকুর তাঁর পর্যবেক্ষণে জানন, “আপনার রাজনৈতিক দলের কেউ নন, সেজন্য আপনি মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক কর্মকর্তাদের অপমান করতে পারেন না। আজ যে ঘৃণ্য ভাষা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ব্যবহৃত হয়েছে, কাল তা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যও ব্যবহার কতে পারে। এই ধরনের সংস্কৃতি চলতে পারে না। অবশ্যই তাঁদের সম্মান জানাতে হবে। যা হয়েছে তা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। আপনার সমর্থকদের বলুন তাঁরা যেন এমন না করে।”

ঘটনার সুত্রপাত হয়েছিল দিল্লির শহোদরা এলাকায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে। অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি বিধায়ক ওম প্রকাশ শর্মা ও কাউন্সিলর গুঞ্জন গুপ্তা ও তাদের সমর্থকদেরর বিরুদ্ধে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও আদালতে পেশ হয়। যেখানে ওই বিজেপি নেতা ও সমর্থকদের দেখা যায় দলীয় পতাকা হাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ঘৃণ্য ভাষায় অপমান করতে। আর এর প্রেক্ষিতেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি লকুর। তিনি ওই বিজেপি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি সরাসরি সরকারি কাজে সরাসরি বাধা দেননি। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দলের পতাকা নেড়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। আপনি দিল্লি বা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করতে পারেন না। তিনি একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি। এই ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে আপনি যে কোনও কিছু করতে পারেন। আপনি গণতন্ত্রকে ধংস করছেন।” শুধু তাই নয়, ঘটনার জেরে ওই বিধায়ক ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জারি করা হয় অবমাননার নোটিশ। এবং যে সকল বিজেপি সমর্থক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য ও হিংসা ছড়াচ্ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
আর এই ঘটনার সঙ্গেই বর্তমান ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন নেটিজেনরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেদিনের ঘটনাতেও অভিযুক্ত ছিলেন দুই বিজেপি নেতা, এবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দাবি উঠছে এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের তরফে আগেই যখন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল তাহলে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কনক্লেভে বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-বাবার ঠিক নেই।” এই ধরণের মন্তব্যর তীব্র নিন্দা করা হয়েছে সব মহলের তরফেই। এরইমাঝে প্রকাশ্যে এল শীর্ষ আদালতের পুরনো পর্যবেক্ষণ।














































































































































