হারের ভয়! উত্তরপ্রদেশ উপনির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের

0
2

২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে(UttarPradesh) চুড়ান্ত খারাপ ফলাফল হয়েছে কংগ্রেসের(Congress)। এরইমাঝে উত্তরপ্রদেশের রামপুর(Rampur) ও আজমগড়(Ajamgar) লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। আর এই নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল হাত শিবির। প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হিসাবে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী(Priyanka Gandhi) জানিয়ে দিলেন, চার মাস আগের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন সংগঠন মজবুত করার দিকে নজর দেওয়া দরকার। তবে এই সিদ্ধান্তে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কংগ্রেস সুত্রের খবর, আরও খারাপ ভলাফলের আশঙ্কায় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ৮০৩ আসনের মধ্যে ৩৯৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। তবে সকলকে অবাক করে মাত্র ২ আসনে জয় পায় হাত শিবির। ৩৮৭ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তাদের। এই লজ্জাজনক ফলের পর কংগ্রেস হাই কমান্ডের নির্দেশে অজয়কুমার লাল্লু প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। তারপরে তিন মাস কাটতে চললেও নতুন সভাপতি নিযুক্ত করা হয়নি। এদিকে উপনির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার যে কারণ দেখানো হয়েছে নেতৃত্বের তরফে তারপর দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, যদি সংগঠন সক্তিশালী করাই লক্ষ্য হুয় সেক্ষেত্রে কেন এতদিনেও প্রদেশ সভাপতি নিযুক্ত করা হয়নি? ত তিন মাসে প্রিয়ঙ্কা কেন মাত্র এক বার লখনউয়ে গিয়েছেন! তা-ও মাত্র এক দিনের জন্য!

আগামী ২৩ জুন উত্তরপ্রদেশের যে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন সেখানে ২০১৯ সালের নির্বাচনে দুটি আসন ছিল সপার দখলে। আজমগড়ে জিতেছিলেন অখিলেশ যাদব এবং রামপুরে জয়ী হয়েছিলেন আজম খান। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর লোকসভা থেকে ইস্তফা দেন তাঁরা। এবার সপার তরফে এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন ধর্মেন্দ্র যাদব ও আসিম রাজা। কংগ্রেসের তরফে এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি যোগেশ দীক্ষিত বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখার পরে এখন জরুরি হল, রাজ্যে কংগ্রেসের নিজের সংগঠনকে সাজানো। যাতে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নিজেকে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে হাত শিবিরের তরফে যা গুঞ্জন তা হল, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে দিশাহীন অবস্থা কংগ্রেসের। এখন পর্যন্ত খালি পড়ে রয়েছে প্রদেশ সভাপতি পদ। জাতপাতের সমীকরণ, তরুণ না প্রবীণ— এ সব নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে গিয়েই সময় চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে কংগ্রেসের তা নিশ্চিতভাবে বুঝে গিয়েই লজ্জার হার আর দেখতে চাইছে না শীর্ষ নেতৃত্ব তাই শক্তিশালী সংগঠনের অজুহাত।