Srilanka:চরম আর্থিক সঙ্কট, পদত্যাগ ২৬ মন্ত্রী

0
13

চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। বন্ধ হয়েছে নেটমাধ্যাম। ক্ষোভে ফুঁসছে বাসিন্দারা। এরইমধ্যে রবিবার রাতে মন্ত্রিসভার ২৬ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপক্ষে অবশ্য ইস্তফা দেননি।যার জেরে উত্তপ্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত।

আরও পড়ুন:Petrol Diesel Price Hike:রুটিন মেনেই ফের বাড়ল জ্বালানির দাম! কলকাতায় দাম কত?

অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে শ্রীলঙ্কায় বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উপর বাড়ছে আমজনতার অসন্তোষ। এদিন গভীর রাত অবধি মন্ত্রিসভার বৈঠক চলে। তারপরই শিক্ষামন্ত্রী জানান, কালে একযোগ ২৬ মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকছেন  মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষই। রবিবার বিকেলেই জল্পনা শোনা গিয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কাছে ইস্তফা জমা দিয়েছেন ছোট ভাই মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষ। কিন্তু রাতেই জানা যায়, ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে। গোটা মন্ত্রিসভা ইস্তফা দিলেও, প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষ।

রাতেই যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলে নামাল রাজাপক্ষ টুইট করে ইস্তফার কথা জানান। তিনি টুইটে লেখেন, “আমি প্রেসিডেন্টের সচিবকে জানিয়েছি যে এই মুহূর্ত থেকেই আমি মন্ত্রিসভার সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। আশা করছি এই সিদ্ধান্ত ওনাকে (প্রেসিডেন্ট) ও প্রধানমন্ত্রীকে দেশবাসী ও শ্রীলঙ্কার সরকারের জন্য স্থিতাবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করবে। আমি ভোটারদের প্রতি, আমার দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।”আর এভাবেই অস্বস্তি বাড়ান তাঁর ভাইপো । দেশে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রথম থেকেই অখুশি ছিলেন নামাল। এদিন তিনি প্রশাসনের কাছে আর্জি জানান, তারা যেন এই সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করে দেখে।

এদিকে অর্থনৈতিক সঙ্কটের দরুন দেশে মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া। রুটি রুজি তো দূর। শিশুর গুড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ টাকা দরে। বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, এককথায় অগ্নিমূল্য বাজার দর। স্বভাবতই বাড়ছে জনরোষ। তাকে সামাল দিতেই ৩৬ ঘণ্টা কার্ফু জারি করেছিল গোতাবায়া সরকার। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই বিক্ষভ দেখাতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর জানা গিয়েছে, গত কাল রাত ১০টা থেকে আজ ভোর ৬টার মধ্যে পুলিশি অভিযান চলে। শুধু পশ্চিমাঞ্চল প্রদেশ থেকেই সরকার-বিরোধী কাজের অভিযোগে ৬৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ সকালে প্রতিবাদে শুরু হয় পেরাডেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। ছাত্র বিক্ষোভ সামাল দিতে নাজেহাল হতে হয় পুলিশকে। শেষে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কোয়ারের জমায়েতে শামিল হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। পুলিশি ধরপাকড় সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের দমিয়ে রাখা যায়নি। মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে, ‘গোতা গো হোম’ ।